বিপরীত — আহসানুল ইরফান
বিপরীত
— আহসানুল ইরফান
উত্তরের ওপর দক্ষিণ বসে হাই তুলছে, আর আকাশে মাছেরা আলু-গন্ধা ফুলের মতো শান্তিতে সমবেগে উড়ছে — যেনো তারা পদার্থবিজ্ঞানের মাস্টারক্লাস করতে চায়।
পৃথিবী উল্টো হয়ে গেছে, অথচ কারো কিচ্ছু যায় আসে না। গরুরা গাছে চড়ে বিচ হ্যাট পরে গান গাইছে —
"দুধ দাও গো দুধ, নিউটনের মাথার ওপর..."
আমি আর টেসলা শুচিবায়ুর রোগী; হাতে হাত রেখে গুনে গুনে হেঁটে চলেছি।
এক... দুই... তিন...
পাঁচ নাম্বারে এসে হঠাৎ টেসলা থেমে গিয়ে গম্ভীরভাবে বললো,
— "ইরফান, যদি আগামীকাল বৃষ্টি না হয়… তাহলে আমাদের গবেষণা কি রোদে শুকাতে দেবো?"
আমি চোখ মেলে তাকালাম, তারপর এক টুকরো উড়ন্ত ইলিশের দিকে আঙুল দেখিয়ে বললাম,
— "না বন্ধু, আগামীকালও বৃষ্টি হবে, আমাদের নতুন ছাতা বানাতে হবে!"
— "টেসলা আকাশের দিকে তাকিয়ে গম্ভীরভাবে বললো,
— "ইরফান, এই গবেষণার নতুন ছাতা না বানালে… ভবিষ্যতের বিজ্ঞানীরা আমাদেরকে 'ভেজা আবিষ্কারক' নামে ডাকবে!”
ঠিক তখনই দেখি সামনে থেকে লুঙ্গি পরা একজন লোক ইউরেকা ইউরেকা করে দৌড়ে আসছে। আরে! এ যে আর্কিমিডিস! হাতে একটা প্লাস্টিকের বালতি, তার ভেতর পানির বদলে বৃষ্টির হিমোগ্লোবিন!
— "ইউরেকা! আমি বুঝে গেছি! শাওয়ার জেল ছাড়াই গোসল করা যায়!"
আকাশ থেকে হুট করে বৃষ্টি নেমে এলো — বৃষ্টি না, যেনো ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা আইসক্রিম ঝরছে!
আমি আর টেসলা পুরোনো ছাতা খুলে আর্কিমিডিসের পেছনে দৌড়োচ্ছি। আর্কিমিডিস দৌড়োনো থামছেই না! আমরা বলতে লাগলাম — "বন্ধু পুরোনো ছাতার নিচে আসো।" আমাদের ছাতার নিচে আসতেই আর্কিমিডিস বললো,
— "তোমার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা এতো গভীর, ডুবে থাকা যেনো ফুল টাইম গবেষণা"
আমি আর টেসলা একসাথে জিজ্ঞেস করলাম,
— "আগামীকাল যদি বৃষ্টি হয় তাহলে কি আমরা আবার দৌড়োবো?"
আর্কিমিডিস বললো, — "যদি তরলে ডুবানো কোনো বস্তু তার দ্বারা সরানো তরলের ওজনের সমান একটি আপেক্ষিক ভাসমান বল অনুভব করে... তাহলে আমি অন্তকাল ধরেও খুশিতে দৌড়োতে রাজি আছি।"
টেসলা বললো,
— "তাহলে ছাতার বাইরে গবেষণা হবে না, ছাতার ভেতরেই হবে!"
আমি হেসে বললাম,
— "তাহলে আমাদের গবেষণার শিরোনাম হবে — 'ছাতার ভেতরে টেসলা ও আর্কিমিডিস: এক জ্যান্ত পানিতে ভাসা বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার।'"
ঠিক তখনই একটা উড়ন্ত মাছ গেয়ে উঠলো,
— "তুমি টেসলার ভোল্টেজ, আমি আর্কিমিডিসের জলের টান!"
সবাই থেমে তাকিয়ে রইলো!
আমি, টেসলা, আর আর্কিমিডিস একসাথে বললাম,
— "তাহলে এবার আমাদের সত্যিই একটা নতুন ছাতা বানাতেই হবে... যেটা গানও গাইবে!"
শেষে দেখা গেলো,
নতুন ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে টেসলা ভোল্টেজ মাপছে,
আমি মাছেদের সঙ্গে শূন্যে সাঁতার কেটে যাচ্ছি,
আর আর্কিমিডিস দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছে —
বস্তু তো ডুবে, কিন্তু আজকাল গল্পের আবেগ ডুবছে না!
Comments
Post a Comment