Posts

প্রশ্নবিদ্ধ সহীহ হাদিস:

 প্রশ্নবিদ্ধ সহীহ হাদিস:  নবী ﷺ বলেছেন, প্রতিদিন ইয়াজুজ-মাজুজ প্রাচীর খুঁড়ে খুঁড়ে প্রায় ভেদ করে ফেলে। সন্ধ্যায় তাদের নেতা বলে, "কাল খুঁড়বো।" তখন আল্লাহ প্রাচীরকে আগের মতো শক্ত করে দেন। একদিন তারা বলবে, "ইনশাআল্লাহ, কাল খুঁড়বো।” তখন আল্লাহ ইচ্ছা করলে তারা বের হয়ে আসবে। — (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৩৭; জামে তিরমিজি, হাদিস: ২১৮৩)  এই হাদিসকে সহীহ বা গ্রহণযোগ্য সহীহ পর্যায়ের বলেছেন—ইমাম মুসলিম, ইমাম তিরমিজি (হাসান সহীহ/গ্রহণযোগ্য সহীহ), ইমাম নববী, ইবনু হাজার, ইবন কাসির, শাইখ আল-আলবানি।  প্রশ্ন হলো, যুলকারনাইন বাদশাহ কি বোকা যে এমন দেয়াল বানাবেন যা এক দিনের মধ্যেই ছিদ্র হয়ে যায়? ইয়াজুজ-মাজুজ যখন একদিন দেখে যে দেয়ালটি আবার আগের মতো হয়ে গেছে, তখন তারা দ্বিতীয় দিন এবং বারবার কেন চেষ্টা করবে দেয়াল ভেদ করতে? তারা কি বোকা বা মানসিক রোগী? যদি তারা প্রকৃতিগতভাবে জন্তু-জানোয়ারের মতো হয় বা সবাই মানসিক রোগী হয়, তাহলে তারা মানুষের বংশধর হয় কীভাবে? প্রকৃতিগতভাবে যদি তারা জন্তু-জানোয়ারের মতো হয়, তাহলে যুলকারনাইন প্রাচীর বানানোর আগে ইয়াজুজ-মাজুজ কী করতো? তারা অতীতে পুরো বিশ্বজুড়ে বিশৃঙ্খলা ...

মালাকুল মাউত কি তার পরিচয় মূসা (আ.)-এর কাছে দিয়েছিলেন নাকি দেননি?

 হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত—মালাকুল মাউত (মৃত্যুর ফেরেশতা) মূসা (আ.)-এর কাছে পাঠানো হলো। তিনি যখন তাঁর কাছে এলেন, তখন মূসা (আ.) তাকে একটি আঘাত করলেন, ফলে তাঁর একটি চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হলো। মালাকুল মাউত তাঁর রবের কাছে ফিরে গিয়ে বললেন, "আপনি আমাকে এমন এক বান্দার কাছে পাঠিয়েছেন, যে মৃত্যু চায় না।" তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর চোখ ফিরিয়ে দিলেন এবং বললেন, "তুমি আবার তার কাছে ফিরে যাও এবং তাকে বলো—সে যেনো একটি বলদের পিঠে হাত রাখে। তার হাত যতো লোম ঢাকবে, প্রতিটি লোমের বিনিময়ে তাকে এক বছর করে জীবন দেয়া হবে।" মূসা (আ.) বললেন, "হে আমার রব! এরপর কী হবে?" আল্লাহ বললেন, "এরপর মৃত্যু।" মূসা (আ.) বললেন, "তাহলে এখনই।" এরপর তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন যেনো তাঁকে পবিত্র ভূমির (বায়তুল মুকাদ্দাসের) কাছাকাছি, একটি পাথর নিক্ষেপের দূরত্বে ইন্তেকাল করানো হয়। — (সহিহ বুখারি: হাদিস নং ১৩৩৯, ৩৪০৭; সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ২৩৭২) (১) মালাকুল মাউত তার পরিচয় দিয়েছেন নাকি দেননি তা হাদিসে বলা হয়নি। যদি পরিচয় না দিয়ে থাকেন, তাহলে মালাকুল মাউত আঘাতের শিকার কেন ...

ফেরেশতা কি বলেছিলেন যে, ১ ঘণ্টা পরে 'ইনশাআল্লাহ' বলবেন, যার কারণে সুলাইমান (আ.) 'ইনশাআল্লাহ' বলতে ভুলে গেছেন?

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— হযরত সুলাইমান ইবন দাউদ (আ.) বললেন, "আজ রাতে আমি নব্বই জন স্ত্রীর কাছে যাবো; প্রত্যেকেই একটি করে পুত্র সন্তান জন্ম দেবে, যে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করবে।” তখন একজন ফেরেশতা তাকে বললেন, "ইনশাআল্লাহ বলুন।" কিন্তু তিনি তা বললেন না। এরপর তিনি তাঁদের কাছে গেলেন; কিন্তু একজন স্ত্রী ছাড়া আর কেউ সন্তান জন্ম দিলো না, এবং সে সন্তানও ছিলো অর্ধ-গঠিত। এরপর নবী (সা.) বলেন— "যদি তিনি 'ইনশাআল্লাহ' বলতেন, তবে প্রত্যেক স্ত্রী সন্তান জন্ম দিতো এবং তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করতো।” — (সহীহ আল-বুখারী, হাদীস নম্বর: ৬৬৩৯ (কিছু সংস্করণে ভিন্ন নম্বর) [] ৬০ জন স্ত্রী — কিছু নির্দিষ্ট রেওয়ায়েতে এসেছে, ৭০ জন স্ত্রী — কিছু বর্ণনায় এসেছে, ৯০ জন স্ত্রী — এমন রেওয়ায়তও রয়েছে, ১০০ জন স্ত্রী — অন্য রেওয়ায়তে উল্লেখ আছে। (১) সোলাইমান (আ.) কি অহংকারবশত 'ইনশাআল্লাহ' বলেননি? = অহংকারবশত নয়। <?> ফেরেশতা কি বলেছিলেন যে, ১ ঘণ্টা পরে 'ইনশাআল্লাহ' বলবেন, যার কারণে সুলাইমান (আ.) 'ইনশাআল্লাহ' বলতে ভুলে গেছেন? = এটি ...

মূসা (আ.) আজরাইল (আ.)-কে চড় মেরেছিলো।

 হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত— মালাকুল মাউত (মৃত্যুর ফেরেশতা) মূসা (আ.)-এর কাছে পাঠানো হলো। তিনি যখন তাঁর কাছে এলেন, তখন মূসা (আ.) তাকে একটি আঘাত করলেন, ফলে তাঁর একটি চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হলো। মালাকুল মাউত তাঁর রবের কাছে ফিরে গিয়ে বললেন, “আপনি আমাকে এমন এক বান্দার কাছে পাঠিয়েছেন, যে মৃত্যু চায় না।” তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর চোখ ফিরিয়ে দিলেন এবং বললেন, “তুমি আবার তার কাছে ফিরে যাও এবং তাকে বলো— সে যেন একটি বলদের পিঠে হাত রাখে। তার হাত যত লোম ঢাকবে, প্রতিটি লোমের বিনিময়ে তাকে এক বছর করে জীবন দেওয়া হবে।” মূসা (আ.) বললেন, “হে আমার রব! এরপর কী হবে?” আল্লাহ বললেন, “এরপর মৃত্যু।” মূসা (আ.) বললেন, “তাহলে এখনই।” এরপর তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন যেন তাঁকে পবিত্র ভূমির (বায়তুল মুকাদ্দাসের) কাছাকাছি, একটি পাথর নিক্ষেপের দূরত্বে ইন্তেকাল করানো হয়। — (সহিহ বুখারি: হাদিস নং ১৩৩৯, ৩৪০৭, সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ২৩৭২) (১) আজরাইল (আ.) কি শক্তিশালী নন যে আঘাত প্রতিহত করতে পারলেন না? = ফেরেশতার শক্তি আল্লাহর আজ্ঞা অনুযায়ী সীমিত হয়। এখানে ঘটনাটি এক ধরনের পরীক্ষা ও আল্লাহর নির্দেশ। আঘাত হওয়ার মানে তাদের ক্ষম...

জুব্বা অনারবদের জন্য একটি ইসলামি পোশাক হিসেবে পরিণত হওয়া কাপড়; কিন্তু আরবদের জন্য এটি তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। আবু জেহেলও জুব্বা পরতো, আরব খ্রিস্টান ও ইহুদীরাও জুব্বা পরে। তাই কেউ জুব্বা অথবা পাঞ্জাবি না পরে নামাজ পড়লে তাকে দোষারোপ করার দরকার নেই।

জুব্বা অনারবদের জন্য একটি ইসলামি পোশাক হিসেবে পরিণত হওয়া কাপড়; কিন্তু আরবদের জন্য এটি তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। আবু জেহেলও জুব্বা পরতো, আরব খ্রিস্টান ও ইহুদীরাও জুব্বা পরে। তাই কেউ জুব্বা অথবা পাঞ্জাবি না পরে নামাজ পড়লে তাকে দোষারোপ করার দরকার নেই।

কিয়াস পরিত্যাগ করে মানুষের জন্য অধিক উপযোগী হুকুম গ্রহণ করাই ইস্তিহসান বলে।

কিয়াস পরিত্যাগ করে মানুষের জন্য অধিক উপযোগী হুকুম গ্রহণ করাই ইস্তিহসান বলে। অনেক ক্ষেত্রে ইস্তিহসান করার প্রয়োজন হতে পারে। যেমন— রাসূল (সা.)-এর যুগে বহুবিবাহ অনেক স্বাভাবিক ছিলো, তাই সে সময়ে একজন নারী জানতো যে তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারে। কিন্তু বর্তমান সময়ে যখন একজন নারী বিয়ে করে, তখন সে এ বিশ্বাস নিয়ে বিয়ে করে যে তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করবে না। কোনো পুরুষ দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলে স্ত্রীর অনুমতি নেয়া ফরজ হতে পারে না; কারণ এমন হলে অতীতেও কেউ অনুমতি দিতো না। কিন্তু স্ত্রীকে জানানো ইস্তিহসান অনুযায়ী বর্তমান সমাজে ওয়াজিব হওয়া প্রয়োজন, কারণ আর সূরা নিসা, আয়াত ৩ অনুযায়ী বর্তমান সময়ে না জানালে তা অন্যায় হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিছু প্রেক্ষাপটে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে। ছবি তোলা আয়নায় দেখার সঙ্গে তুলনা করে অনেক আলেম জায়েজ বলেন; কারণ ছবি হলো আলোকবিন্দু (পিক্সেল), যতোক্ষণ না তা প্রিন্ট করা হচ্ছে। আর যেহেতু আয়না বানানো জায়েজ, তাই তারা বলেন ক্যামেরা বানানোও জায়েজ। তবে ছবি প্রিন্ট করা নাজায়েজ। আয়নায় তো চেহারা ধারণ হয় না, কিন্তু ক্যামেরার ছবিতে তা ধারণ হয়; তবে স্থিতিশীল হিসেবে ধারণ হয় না, বরং বাইনারিতে...

আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (সা.) তাঁর সকল স্ত্রীর নিকট দিনের বেলা বা রাতে (একই সময়ে) যাতায়াত করতেন এবং তাঁরা ছিলেন এগারো জন। (রাবী কাতাদা বলেন) আমি আনাস (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবীজির কি সেই শক্তি ছিলো? তিনি উত্তরে বললেন, আমরা বলাবলি করতাম যে, তাঁকে ত্রিশজন পুরুষের শক্তি দেয়া হয়েছে। — (সহীহ বুখারী, হাদিস নং ২৬৮ ও ৫২১৪) হাদিসের মান: সহীহ।

আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (সা.) তাঁর সকল স্ত্রীর নিকট দিনের বেলা বা রাতে (একই সময়ে) যাতায়াত করতেন এবং তাঁরা ছিলেন এগারো জন। (রাবী কাতাদা বলেন) আমি আনাস (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবীজির কি সেই শক্তি ছিলো? তিনি উত্তরে বললেন, আমরা বলাবলি করতাম যে, তাঁকে ত্রিশজন পুরুষের শক্তি দেয়া হয়েছে। — (সহীহ বুখারী, হাদিস নং ২৬৮ ও ৫২১৪) হাদিসের মান: সহীহ। (১) এই হাদিস থেকে এটা নির্ধারণ হয় যে, রাসূল (সা.)-এক সাথে পর পর তার ১১ জন স্ত্রীর সাথে সহবাস করতেন। ❌ (২) এই হাদিস থেকে এটা নির্ধারণ হয় যে, রাসূল (সা.) হয়তো তার ১১জন স্ত্রীর সাথে দেখা করতে যেতেন। এক সাথে পর পর ১১ জন স্ত্রীর সাথে সহবাস করা রাসূল (সা.)-এর চরিত্রের সাথে সাংঘর্ষিক এবং সাহাবীরাও বা কীভাবে জানলেন যে, রাসূল (সা.) ঘরে গিয়ে সহবাস করছেন নাকি দেখা করছেন? ✔️