Posts

মসজিদ বেশি জাকজমক করা নিষেধ :

 ⚫ মসজিদ বেশি জাকজমক করা নিষেধ : [] "আমি আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি যে, মসজিদগুলো সরল ও সাধারণ রাখবে।" — (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৪৮) [] ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "এক সময় আসবে, যখন মানুষ মসজিদগুলোকে সুসজ্জিত করবে, কিন্তু সেখানে নামাজ আদায়কারীর সংখ্যা খুব কম হবে।"  — (সুনান ইবন মাজাহ, হাদিস: ৭৩৯, সহিহ আলবানী) [] "কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে মসজিদগুলো অত্যন্ত শোভিত করা হবে, কিন্তু সেখানে কেউ নামাজ পড়বে না।"  — (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস: ৩৫৫৮৫) [] "কিয়ামতের আগে মানুষেরা মসজিদ নিয়ে গর্ব করবে, কিন্তু তা ইবাদতের জন্য নয়।"  — (ইবনু মাজাহ, হাদিস: ৭৩৮) [] আনাস ইবন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "কিয়ামত আসবে না, যতক্ষণ না মানুষ মসজিদ নিয়ে গর্ব করতে শুরু করে।"  — (সুনান ইবন মাজাহ, হাদিস: ৭৩৮, সহিহ আলবানী) [] রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদকে অতিরিক্ত শোভিত করা পছন্দ করতেন না এবং মসজিদকে সাধারণ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। — (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৪৮)

কোনো ইসলামিক বক্তব্যের শুরুতে ও শেষে সাধারণত যেগুলো বলা হয়:

 ⚫ কোনো ইসলামিক বক্তব্যের শুরুতে ও শেষে সাধারণত যেগুলো বলা হয়: __________________________________________________ ◾শুরুতে সাধারণত যেগুলো বলা হয়: ٱلْـحَمْدُ لِلَّهِ، وَٱلصَّلَاةُ وَٱلسَّلَامُ عَلَىٰ رَسُولِ ٱللَّهِ، وَعَلَىٰ آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ، أَمَّا بَعْدُ- উচ্চারণ: আল-হামদু লিল্লাহ, ওয়াস্-সালাতু ওয়াস্-সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, ওয়া আলা আ-লিহি ওয়া সাহাবিহি আজমাঈন, আম্মা বাদ। অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রসূলের ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সমস্ত সাহাবিদের ওপর। এরপর সাধারণত বলা হয়, أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ- بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ- উচ্চারণ: আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। অর্থ: আমি অভিশপ্ত শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। __________________________________________________ এছাড়া শুরুতে বলা যেতে পারে,  اَلْـحَمْدُ لِلّٰهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللّٰهِ مِنْ شُرُوْرِ أَنْفُسِنَ...

অলৌকিক ঘটনা কি কেবল নবি রসূলদের সাথেই ঘটে?

অলৌকিক ঘটনা কি কেবল নবি রসূলদের সাথেই ঘটে? = না। এমন অনেক ব্যক্তি ছিলেন যারা নবি অথবা রসূল ছিলেন না কিন্তু তাদের সাথে অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে।  [] সূরা আল-বাকারা (২:২৫৯) : তুমি কি তাকে দেখনি, যে এক জনপদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, যা ছিলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত? সে বলল, "আল্লাহ কীভাবে এ জনপদকে তার মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবিত করবেন?" তখন আল্লাহ তাকে মৃত করে দিলেন একশত বছরের জন্য, এরপর তাকে পুনর্জীবিত করে বললেন, "তুমি কতোকাল ছিলে?" সে বললো, "একদিন অথবা একদিনের কিছু অংশ।" আল্লাহ বললেন, "না, তুমি ছিলে একশত বছর। এখন তোমার খাদ্য ও পানীয়ের দিকে তাকাও—তা এতদিনেও পরিবর্তিত হয়নি। আর তোমার গাধার দিকেও তাকাও—এটা তো আমরা তোমার জন্য এক নিদর্শন বানিয়েছি। আর আমরা হাড়গুলোকে কীভাবে একত্র করি এবং পরে মাংস পরিয়ে দিই, তা দেখো।" যখন সব পরিষ্কার হয়ে গেলো, তখন সে বললো, "আমি জানি নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।" এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা একজন ব্যক্তির কথা বলছেন যাকে ১০০ বছরের জন্য মৃত রাখা হয়েছিলো এবং তারপর জীবন করা হয়েছিলো। [] আসহাবে কাহাফ (আরবি: أَصْحَابُ ٱلْكَهْفِ) অর্থ...

স্বপ্ন ও তার অলৌকিক ইঙ্গিত:

⚫ স্বপ্ন ও তার অলৌকিক ইঙ্গিত: মানবজীবনে কিছু স্বপ্ন এমনভাবে আত্মপ্রকাশ করে, যা নিছক মানসিক প্রতিফলন মাত্র নয়—বরং কখনো কখনো তা ভবিষ্যতের সংকেত, বিশেষ ঘটনার পূর্বাভাস কিংবা এক গভীর আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা হিসেবে প্রতিভাত হয়। ইতিহাসের পরিক্রমায় দেখা যায়, বহু মহান ব্যক্তিত্ব তাঁদের জীবনের মোড় পরিবর্তনকারী গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি ও অনুপ্রেরণা স্বপ্নের মাধ্যমে লাভ করেছেন। নিচে তেমনি কিছু বিশিষ্ট স্বপ্ন ও তাদের ব্যাখ্যা সুসংহতভাবে উপস্থাপন করা হলো: [] সৎ স্বপ্ন ও নবুয়তের সম্পর্ক: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "সৎ স্বপ্ন হলো নবুয়তের ৪৬টি অংশের একটি অংশ।" (সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৬৯৮৯, সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২২৬৩) এ থেকে বোঝা যায়, সত্য ও পরিষ্কার স্বপ্ন কখনো কখনো আধ্যাত্মিক নির্দেশনার উৎস হতে পারে। > নবী ইউসুফ (আ.)–এর স্বপ্ন: ছোটবেলায় নবী ইউসুফ (আ.) তাঁর পিতাকে বললেন, "হে আমার পিতা, আমি স্বপ্নে দেখেছি, এগারোটি তারা, সূর্য ও চাঁদ—আমি দেখলাম তারা আমাকে সেজদা করছে।" (সূরা ইউসুফ, আয়াত ৪) এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা ছিলো: ১১টি তারা = তাঁর ১১ ভাই সূর্য = তাঁর পিতা হযরত ইয়াকুব (আ.) চাঁদ = তাঁর ...

নামাজের সময় কোথায় হাত বাধাতে হবে:

⚫ নামাজের সময় কোথায় হাত বাধাতে হবে: [] "সাহল ইবনু সা'দ (রা.) থেকে, "মানুষকে আদেশ করা হয়েছিলো যে, নামাজে মানুষ ডান হাত বাম হাতের ওপরে রাখবে।" — (সহীহ বুখারী ৭৪০, সহীহ মুসলিম ৪০১) > এই হাদিসটি সর্বসম্মতভাবে সহীহ। এখানে হাত কোথায় রাখা হবে বুক নাকি নাভির নিচে – কিছু বলা হয়নি, কেবল বলা হয়েছে ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখতে হবে। ____________________________________________________ ____________________________________________________ [] আলী ইবনে আবী তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "এটা সুন্নাহ যে, নামাজে মানুষ ডান হাত বাম হাতের কব্জি ধরে নাভির নিচে রাখবে।" — (সুনান আবু দাউদ ৭৫৬, সুনান আহমদ ৮৫৮, ইমাম আহমদ ও আবু দাউদ এটাকে হাসান বলেছেন; অনেক মুহাদ্দিস সহীহও বলেছেন) অবস্থান: নাভির নিচে। ওয়াইল ইবনে হুজর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে নামাজে দাঁড়িয়ে দেখেছি, তিনি তাঁর ডান হাত বাম হাতের ওপরে রেখেছেন বুকে। — (সুনান ইবনে খুযাইমাহ ৪৭৯, সহীহ; আলবানীও সহীহ বলেছেন) অবস্থান: বুকে। ____________________________________________________ কারা কারা সহীহ বলেছেন...

আমেরিকা-ইসরায়েল, শিয়া, সুন্নি:

 ⚫ আমেরিকা-ইসরায়েল, শিয়া, সুন্নি: > পৃথিবীতে এখন বিভিন্ন দেশে যে সংঘাতগুলো চলছে যেমন— রাষ্ট্রীয় সংঘাত, ধর্মীয় সংঘাত, আকিদাগত সংঘাত (শিয়া-সুন্নি) এগুলোর ধর্মীয় সংঘাত ও আকিদাগত সংঘাতের বেশিরভাগও হচ্ছে মূলত রাষ্ট্রীয় স্বার্থে: [] বাংলাদেশ একটি সুন্নি মুসলিম প্রধান দেশ এবং পাকিস্তানও একটি সুন্নি মুসলিম প্রধান দেশ, আর পাকিস্তানকে সাধারণত আমাদের চেয়ে বেশি ধার্মিক ধরা হয়। সেই পাকিস্তান ১৯৪৭-১৯৭১ পর্যন্ত আমাদের অত্যাচার করেছে। আফগানিস্তান সুন্নি মুসলিম প্রধান দেশ এবং পাকিস্তানও, তবুও তাদের ভেতর সংঘাত। ইসরায়েলের ১৮ শতাংশ মানুষ মুসলিম, কিন্তু ইসরায়েল তাদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে না। অনেক ইসরায়েলি মুসলিম অনেক সময় বৈষম্যের শিকার হয়, কিন্তু তারা সাধারণত ভালোই আছে এবং অনেকেই সংসদে অংশ নেয়। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে, কারণ এক্ষেত্রে তাদের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ আছে। তারা তাদের ভূখণ্ড সম্প্রসারণ করতে চায়, পশ্চিম তীরের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে চায়। সুন্নি দ্বারা শিয়া হত্যা: ১৯৭৯-২০০৩ ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দাম হোসেনের আমলে শিয়াদের ওপর চরম নির্যাতন চালানো হয়। ১৯৯১ সালের গণঅভ্যুত্...

গানবাজনা ও ইসলাম :

 ⚫ গানবাজনা ও ইসলাম : [1] Ringtone কিন্তু বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে তৈরি হয়। [2] নাশিদ অর্থাৎ ইসলামি গানে শি-শি ধরনের এক ধরনের দীর্ঘ সময়ের আওয়াজ (music) ব্যবহার করা হয়, সেটাও বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে তৈরি হয়। [3] নানা ইসলামি অনুষ্ঠান, যেমন— আলোকিত জ্ঞানি; সেখানে নানা কথা, যেমন— আলহামদুলিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ; এগুলোর সাথে নানা আওয়াজ (music) হয়, সেগুলো বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে তৈরি হয়। [1], [2] ও [3]-এর ভেতর [1]-তো প্রয়োজন।  [] "বিশেষ অনুষ্ঠানে" "নিরীহ বা বলা যেতে পারে কম উত্তেজক বাদ্যযন্ত্র" বাজানো হালাল, যেমন- দফ, আর রাসূল (সা.)-এর যুগে যে কয়টি বাদ্যযন্ত্র ছিলো তার ভেতর দফ সবচেয়ে প্রচলিত ছিলো আর দফ নিরীহ ও কম উত্তেজক। আর যদি হালাল গান গাইতে হয় সবার সামনে তাহলে কিশোরীরা সেটা করতে পারবে, যুবতীরা নয়।  গান: কুরআনে সূরা লোকমানে যে আয়াত (৩১:৬) দ্বারা আলেমরা গানবাজনাকে হারাম বলে, সেখানে যে শব্দ আছে তা হলো: লাহূও আল-হাদিস, যার অর্থ হলো মূলত তুচ্ছ বিনোদনের জন্য কথাবার্তা। এই শব্দের দ্বারা ওপরেরগুলো হারাম ঘোষণা করা সাধারণত যায় না। [] আর হাদিসে উট চলার গান গাওয়া, বিয়েতে কিশোরীদের গ...