Posts

শব্দ বিভ্রান্তি:

 শব্দ বিভ্রান্তি: ১. "যতোটুকু পারো করো, বাকিটা আল্লাহর ভরসা।" কেউ বলতে পারে, "নাহ, পুরোটাই আল্লাহর ভরসা।"। হ্যাঁ, পুরোটাই আল্লাহর ভরসা, কিন্তু এখানে যা বোঝানো হচ্ছে তা হলো "যতোটুকু পারার করো, তুমি যা করবে তারপর বাকিটা আল্লাহ দেখবেনি", এটা কথা বলার এক ধরন মাত্র।  ২. "ঈমান অর্জন করতে খুব বেশি জ্ঞানের প্রয়োজন হয় না, আল্লাহ চাইলেই একজনের অন্তরে ঈমান দিতে পারেন।" কেউ বলতে পারে, "নাহ, তুমি ভুল, 'আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী তারাই কেবল তাকে ভয় করে' (৩৫:২৮)। এ আয়াতে জ্ঞানী বলতে যারা কুরআন সুন্নাহর আলোকে জ্ঞান রাখে, যেমন: একজন ধার্মিক কৃষক হয়তো ইসলামের সব জানে না, কিন্তু কিছু ভালো জ্ঞান রাখে ফলে জ্ঞানী।  ৩. "যেকোনো কিছুর অতিরিক্ততা সমস্যাজনক, অতিরিক্ত ইবাদত করাও ঠিক নয়।"  কেউ বলতে পারে, "নাহ, নবি রসূলরা আল্লাহর অনেক ইবাদত করতেন"। ওপরে "অতিরিক্ত" বলতে বাড়াবাড়ি করা বোঝানো হচ্ছে, কেউ ধরুন সারাদিন শুধু নামাজই পড়ে, অন্য কিছুই করে নাহ, এমন অতিরিক্ততা।  ৪. "নারীকে চারটি কারণে বিবাহ করা হয়: তার ধন-সম্পদের জ...

গানবাজনা ও ইসলাম :

Image
 গানবাজনা ও ইসলাম : [1] Ringtone কিন্তু বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে তৈরি হয়। [2] নাশিদ অর্থাৎ ইসলামি গানে শি-শি ধরনের এক ধরনের দীর্ঘ সময়ের আওয়াজ (music) ব্যবহার করা হয়, সেটাও বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে তৈরি হয়। [3] নানা ইসলামি অনুষ্ঠান, যেমন— আলোকিত জ্ঞানি; সেখানে নানা কথা, যেমন— আলহামদুলিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ; এগুলোর সাথে নানা আওয়াজ (music) হয়, সেগুলো বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে তৈরি হয়। [1], [2] ও [3]-এর ভেতর [1]-তো প্রয়োজন।  [] "বিশেষ অনুষ্ঠানে" "নিরীহ বা বলা যেতে পারে কম উত্তেজক বাদ্যযন্ত্র" বাজানো হালাল, যেমন- দফ, আর রাসূল (সা.)-এর যুগে যে কয়টি বাদ্যযন্ত্র ছিলো তার ভেতর দফ সবচেয়ে প্রচলিত ছিলো আর দফ নিরীহ ও কম উত্তেজক। আর যদি হালাল গান গাইতে হয় সবার সামনে তাহলে কিশোরীরা সেটা করতে পারবে, যুবতীরা নয়।  গান: কুরআনে সূরা লোকমানে যে আয়াত (৩১:৬) দ্বারা আলেমরা গানবাজনাকে হারাম বলে, সেখানে যে শব্দ আছে তা হলো: লাহূও আল-হাদিস, যার অর্থ হলো মূলত তুচ্ছ বিনোদনের জন্য কথাবার্তা। এই শব্দের দ্বারা ওপরেরগুলো হারাম ঘোষণা করা সাধারণত যায় না। [] আর হাদিসে উট চলার গান গাওয়া, বিয়েতে কিশোরীদের গান...

অনিয়মিতভাবে সম্মিলিত মুনাজাত (বিপদের সময়): (নিয়মিত নয়) :

 অনিয়মিতভাবে সম্মিলিত মুনাজাত (বিপদের সময়): (নিয়মিত নয়) : 🔴 1.  عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ ◾: جَاءَ رَجُلٌ بَعْدَ صَلَاةِ الْجُمُعَةِ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: "يَا رَسُولَ اللَّهِ! الْمَوَاشِي تَمُوتُ وَالنَّاسُ يَهْلِكُونَ" فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَيْهِ وَأَمَّا النَّاسُ فَرَفَعُوا أَيْدِيَهُمْ مَعَهُ حَتَّى أَنْزَلَ اللَّهُ الْمَطَرَ. রেওয়ায়েত করেছেন ◾আনাস ইবনু মালিক (রা.): (◾অন্য রেওয়ায়েতে ভিন্নভাবে বলা আছে) — শুক্রবারের নামাজের পর একজন লোক নবী (সা.)‑এর কাছে এলে বললো, হে আল্লাহর রসুল (সা.) গবাদি পশু মরছে, মানুষ হাহাকার করছে, মৃত্যুর সম্মুখীন হচ্ছে।" তখন রাসূল (সা.) উভয় হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন, এবং উপস্থিত লোকরাও তার সঙ্গে হাত তুলে সম্মিলিতভাবে দোয়ায় অংশ নিয়েছে, যতোক্ষণ না আল্লাহ বর্ষা নেমে আনলেন। > কিন্তু এ হাদিসে "আমিন" বলার কথা নেই"। কিন্তু 4 নম্বরে "আমিন" বলার কথা থাকায় "আমিন" বলা গ্রহণ করা যায়। > এটা নামাজের ভেতরে নয়, না...

আমেরিকা-ইসরায়েল, শিয়া, সুন্নি:

 আমেরিকা-ইসরায়েল, শিয়া, সুন্নি: > পৃথিবীতে এখন বিভিন্ন দেশে যে সংঘাতগুলো চলছে যেমন— রাষ্ট্রীয় সংঘাত, ধর্মীয় সংঘাত, আকিদাগত সংঘাত (শিয়া-সুন্নি) এগুলোর ধর্মীয় সংঘাত ও আকিদাগত সংঘাতের বেশিরভাগও হচ্ছে মূলত রাষ্ট্রীয় স্বার্থে: [] বাংলাদেশ একটি সুন্নি মুসলিম প্রধান দেশ এবং পাকিস্তানও একটি সুন্নি মুসলিম প্রধান দেশ, আর পাকিস্তানকে সাধারণত আমাদের চেয়ে বেশি ধার্মিক ধরা হয়। সেই পাকিস্তান ১৯৪৭-১৯৭১ পর্যন্ত আমাদের অত্যাচার করেছে। আফগানিস্তান সুন্নি মুসলিম প্রধান দেশ এবং পাকিস্তানও, তবুও তাদের ভেতর সংঘাত। ইসরায়েলের ১৮ শতাংশ মানুষ মুসলিম, কিন্তু ইসরায়েল তাদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে না। অনেক ইসরায়েলি মুসলিম অনেক সময় বৈষম্যের শিকার হয়, কিন্তু তারা সাধারণত ভালোই আছে এবং অনেকেই সংসদে অংশ নেয়। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে, কারণ এক্ষেত্রে তাদের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ আছে। তারা তাদের ভূখণ্ড সম্প্রসারণ করতে চায়, পশ্চিম তীরের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে চায়। সুন্নি দ্বারা শিয়া হত্যা: ১৯৭৯-২০০৩ ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দাম হোসেনের আমলে শিয়াদের ওপর চরম নির্যাতন চালানো হয়। ১৯৯১ সালের গণঅভ্যুত্থা...

পুতুল দিয়ে খেলা কি জায়েজ?

হযরত আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, "আমি নবী ﷺ–এর ঘরে পুতুল দিয়ে খেলতাম। আমার কিছু বান্ধবীও আমার সঙ্গে খেলতো। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন ঘরে প্রবেশ করতেন, তারা লজ্জায় সরে যেতো। তখন তিনি তাদের আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন, যেনো তারা আমার সঙ্গে খেলতে পারে।" — (সহিহ বুখারি, কিতাবুল আদব, হাদিস নং ৬১৩০, সহিহ মুসলিম, কিতাবু ফাযায়িলিস সাহাবা, হাদিস নং ২৪৪০) পুতুল তো মূর্তি তাহলে রাসূল (সা.) তা অনুমোদন করলেন কেন? (১) পুতুলটির গঠন সরল ছিলো এজন্য।  (২) আয়েশা (রা.)-এর বয়স কম ছিলো একারণে এটি একটি ছাড় দেয়া। (৩) সরল না হলেও তা পুতুল ছিলো, মূর্তি নয় এ জন্য।  __________________________________________________ [১] সরল হলেও তো সেটা মূর্তি তাহলে সেটা অনুমোদন করলেন কেন? না, তিনি দেখলেন যে সরল ফলে তেমন মূর্তির মতো নয় এ কারণেই অনুমোদন করেছেন। [২] যদি ছোটো মানুষ কোনো ভুল কাজ করে তবুও তো রাসূল (সা.) নিষেধ করবেন। তাহলে পুতুল যা হলো একধরনের মূর্তি সেটা দিয়ে খেলাকে রাসূল (সা.) নিষেধ করলেন না কেন? কারণ ছোটোদের জন্য এটা ছাড় দেয়া হতে পারে, যেহেতু খেলা, কোনো পূজা করা নয়। [৩] সরল না হলেও তা পুতুল, মূর্তি নয় একারণেও অনুমো...

মাকতাদি জোরে আমিন বলবে নাকি আস্তে?

 মাকতাদি জোরে আমিন বলবে নাকি আস্তে?  রাসূল (সা.) মাকতাদিদেরকে আমিন বলতে বলেছেন—এমন সহীহ মারফূ হাদিস আছে; কিন্তু জোরে নাকি আস্তে—তা উল্লেখ নেই (ইমামের ক্ষেত্রে নয়, মাকতাদির ক্ষেত্রে)। কিন্তু সাহাবাদের আমল হিসেবে মাকতাদির ক্ষেত্রে আমিন জোরে ও আস্তে—উভয়েরই সহীহ মাউকূফ হাদিস আছে। তাহলে জোরে ও আস্তে—উভয়ের হাদিস এলো কই থেকে? সম্ভাব্য উত্তর হলো—রাসূল (সা.) বলেছেন, 'ইমাম যখন "ওয়ালাদ্দাল্লীন" বলে, তখন তোমরাও আমিন বলো।’ তখন কেউ জোরে বলেছেন, আবার কেউ আস্তে বলেছেন। আর রাসূল (সা.) কাউকে নিষেধ করেননি; এজন্য জোরে ও আস্তে—উভয় ধরনের সহীহ মাউকূফ হাদিস এসেছে। অথবা, রাসূল (সা.) জোরে বলতে বলেছেন, কিন্তু সবাই তা জানতো না অথবা বুঝতে পারেননি; তাই তাদের অনেকে সূরা ফাতিহার মতো আমিনও আস্তেও বলেছেন। আর রাসূল (সা.) তাদেরকে নিষেধ করেননি, কারণ জোরে বলা ফরজ নয়। অথবা, রাসূল (সা.) আস্তেই বলতে বলেছেন, কিন্তু অনেকে ভেবেছেন জোরে বলতে হবে, আর তারা জোরে বলেছেন, আর রাসূল (সা.) তাদেরকে নিষেধ করেননি, কারণ আস্তে বলা ফরজ নয়। [১] ইবনে উমর (রা.) বলেন, "যখন ইমাম 'ওয়ালাদ-দ্বল্লীন' বলবে, তখন তোমরা 'আমিন...

প্রশ্নবিদ্ধ সহীহ হাদিস:

 প্রশ্নবিদ্ধ সহীহ হাদিস:  নবী ﷺ বলেছেন, প্রতিদিন ইয়াজুজ-মাজুজ প্রাচীর খুঁড়ে খুঁড়ে প্রায় ভেদ করে ফেলে। সন্ধ্যায় তাদের নেতা বলে, "কাল খুঁড়বো।" তখন আল্লাহ প্রাচীরকে আগের মতো শক্ত করে দেন। একদিন তারা বলবে, "ইনশাআল্লাহ, কাল খুঁড়বো।” তখন আল্লাহ ইচ্ছা করলে তারা বের হয়ে আসবে। — (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৩৭; জামে তিরমিজি, হাদিস: ২১৮৩)  এই হাদিসকে সহীহ বা গ্রহণযোগ্য সহীহ পর্যায়ের বলেছেন—ইমাম মুসলিম, ইমাম তিরমিজি (হাসান সহীহ/গ্রহণযোগ্য সহীহ), ইমাম নববী, ইবনু হাজার, ইবন কাসির, শাইখ আল-আলবানি।  প্রশ্ন হলো, যুলকারনাইন বাদশাহ কি বোকা যে এমন দেয়াল বানাবেন যা এক দিনের মধ্যেই ছিদ্র হয়ে যায়? ইয়াজুজ-মাজুজ যখন একদিন দেখে যে দেয়ালটি আবার আগের মতো হয়ে গেছে, তখন তারা দ্বিতীয় দিন এবং বারবার কেন চেষ্টা করবে দেয়াল ভেদ করতে? তারা কি বোকা বা মানসিক রোগী? যদি তারা প্রকৃতিগতভাবে জন্তু-জানোয়ারের মতো হয় বা সবাই মানসিক রোগী হয়, তাহলে তারা মানুষের বংশধর হয় কীভাবে? প্রকৃতিগতভাবে যদি তারা জন্তু-জানোয়ারের মতো হয়, তাহলে যুলকারনাইন প্রাচীর বানানোর আগে ইয়াজুজ-মাজুজ কী করতো? তারা অতীতে পুরো বিশ্বজুড়ে বিশৃঙ্খলা ...