Posts

আমেরিকা-ইসরায়েল, শিয়া, সুন্নি:

 আমেরিকা-ইসরায়েল, শিয়া, সুন্নি: > পৃথিবীতে এখন বিভিন্ন দেশে যে সংঘাতগুলো চলছে যেমন— রাষ্ট্রীয় সংঘাত, ধর্মীয় সংঘাত, আকিদাগত সংঘাত (শিয়া-সুন্নি) এগুলোর ধর্মীয় সংঘাত ও আকিদাগত সংঘাতের বেশিরভাগও হচ্ছে মূলত রাষ্ট্রীয় স্বার্থে: [] বাংলাদেশ একটি সুন্নি মুসলিম প্রধান দেশ এবং পাকিস্তানও একটি সুন্নি মুসলিম প্রধান দেশ, আর পাকিস্তানকে সাধারণত আমাদের চেয়ে বেশি ধার্মিক ধরা হয়। সেই পাকিস্তান ১৯৪৭-১৯৭১ পর্যন্ত আমাদের অত্যাচার করেছে। আফগানিস্তান সুন্নি মুসলিম প্রধান দেশ এবং পাকিস্তানও, তবুও তাদের ভেতর সংঘাত। ইসরায়েলের ১৮ শতাংশ মানুষ মুসলিম, কিন্তু ইসরায়েল তাদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে না। অনেক ইসরায়েলি মুসলিম অনেক সময় বৈষম্যের শিকার হয়, কিন্তু তারা সাধারণত ভালোই আছে এবং অনেকেই সংসদে অংশ নেয়। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে, কারণ এক্ষেত্রে তাদের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ আছে। তারা তাদের ভূখণ্ড সম্প্রসারণ করতে চায়, পশ্চিম তীরের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে চায়। সুন্নি দ্বারা শিয়া হত্যা: ১৯৭৯-২০০৩ ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দাম হোসেনের আমলে শিয়াদের ওপর চরম নির্যাতন চালানো হয়। ১৯৯১ সালের গণঅভ্যুত্থা...

গানবাজনা ও ইসলাম :

Image
 গানবাজনা ও ইসলাম : আনাস বিন মালিক (রা) বলেন নবী (সা.) যুদ্ধ অথবা সফর শেষে (মদিনায়) ফিরে এসেছিলেন, তখন মদীনার কিছু কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি তাঁকে স্বাগত জানালো। তারা তাঁর সামনে নাচছিলো এবং তাদের (হাবশার) ভাষায় গান গাইছিলো এবং বলছিলো মুহাম্মাদ এসেছেন, তিনি একজন সৎকাপিরায়ণ ব্যক্তি। কিন্তু নবী (সা.) (তাদের কথা গুলো) বুঝতে পারলেন না। তাই তিনি লোকদের জিজ্ঞাসা করলেন তারা কি বলছে? লোকেরা বললো, তারা বলছে 'মুহাম্মাদ আল্লাহর সৎকর্মপরায়ণ বান্দা'। – (সুনান আল কুবরা, ৪২৩৬) হাদিসের মান: সহীহ। > গানে যদি হারাম কিছু না থাকে তাহলে তা গাওয়া জায়েজ। > নারীরা পুরুষের সামনে নয়, কেবল পুরুষ যদি শুধু নাচের মতো করে গা নড়ায় তাহলে তা জয়েজ। "হালাল" গান হওয়া কি কেবল বিশেষ অনুষ্ঠানে হালাল? আনাস ইবন মালিক (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) এক সফরে ছিলেন। তাঁর একজন খাদেম বা উটচালক ছিলো, যার নাম ছিলো আঞ্জাশা। সে সুন্দর কণ্ঠে উট চলার গান গাইতো। তখন নবী (সা.) তাকে বললেন, "হে আঞ্জাশা! আস্তে চালাও। কাঁচের পাত্রগুলো ভেঙে ফেলো না।" (অর্থাৎ নারীদের ব্যাপারে সাবধান হও; তারা কোমল কাঁচের পাত্রের মতো।)  — (স...

খিলাফত ও শরীয়াহ যেহেতু বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণের সমর্থন পাবে না, তাহলে গণতান্ত্রিক দেশে মুসলিমদের কি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার যেসব পদ রয়েছে সেগুলোতে থেকে রাষ্ট্রের জন্য কাজ করা হারাম— এমনকি যদি রাষ্ট্রের জন্য কাজ করার প্রয়োজনও থাকে? মুসলিমদের কি তাহলে ক্ষমতার কোনো প্রয়োজন নেই? তারা কি ক্ষমতা অধার্মিকদের হাতে ছেড়ে দেবে?

খিলাফত ও শরীয়াহ যেহেতু বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণের সমর্থন পাবে না, তাহলে গণতান্ত্রিক দেশে মুসলিমদের কি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার যেসব পদ রয়েছে সেগুলোতে থেকে রাষ্ট্রের জন্য কাজ করা হারাম— এমনকি যদি রাষ্ট্রের জন্য কাজ করার প্রয়োজনও থাকে? মুসলিমদের কি তাহলে ক্ষমতার কোনো প্রয়োজন নেই? তারা কি ক্ষমতা অধার্মিকদের হাতে ছেড়ে দেবে? নবুওয়াতের আগে রাসূল (সা.) 'হিলফুল ফুদূল' নামে একটি ন্যায়ভিত্তিক সামাজিক জোটে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিলো মক্কায় অত্যাচারিতদের অধিকার রক্ষা করা। পরে তিনি বলেন, "ইসলামের যুগেও যদি আমাকে এ ধরনের চুক্তির জন্য ডাকা হতো, আমি অবশ্যই সাড়া দিতাম।" — (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং: ১৬৫৫) এটি প্রমাণ করে যে ন্যায় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তিনি প্রাক-ইসলামী সমাজের উদ্যোগেও অংশ নিয়েছিলেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক ঘটনা উল্লেখ করা যায়। যেমন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ওপর পরিচালিত অভিযানে হতাহতের ঘটনা ঘটে। কোনো ইসলামী দল ক্ষমতায় থাকলে এমন ঘটনা ঘটতো না। বিভিন্ন সময়ে জনপ্রিয় আলেমদের মাহফিল নিষিদ্ধ করা বা মাইক কেড়ে নেয়ার ঘটনাও হয়তো ঘটতো না। এছাড়া ২০১৩ সাল এবং ২০২১ ...

পুতুল দিয়ে খেলা কি জায়েজ?

হযরত আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, "আমি নবী ﷺ–এর ঘরে পুতুল দিয়ে খেলতাম। আমার কিছু বান্ধবীও আমার সঙ্গে খেলতো। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন ঘরে প্রবেশ করতেন, তারা লজ্জায় সরে যেতো। তখন তিনি তাদের আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন, যেনো তারা আমার সঙ্গে খেলতে পারে।" — (সহিহ বুখারি, কিতাবুল আদব, হাদিস নং ৬১৩০, সহিহ মুসলিম, কিতাবু ফাযায়িলিস সাহাবা, হাদিস নং ২৪৪০) পুতুল তো মূর্তি তাহলে রাসূল (সা.) তা অনুমোদন করলেন কেন? (১) পুতুলটির গঠন সরল ছিলো এজন্য।  (২) আয়েশা (রা.)-এর বয়স কম ছিলো একারণে এটি একটি ছাড় দেয়া। (৩) সরল না হলেও তা পুতুল ছিলো, মূর্তি নয় এ জন্য।  __________________________________________________ [১] সরল হলেও তো সেটা মূর্তি তাহলে সেটা অনুমোদন করলেন কেন? না, তিনি দেখলেন যে সরল ফলে তেমন মূর্তির মতো নয় এ কারণেই অনুমোদন করেছেন। [২] যদি ছোটো মানুষ কোনো ভুল কাজ করে তবুও তো রাসূল (সা.) নিষেধ করবেন। তাহলে পুতুল যা হলো একধরনের মূর্তি সেটা দিয়ে খেলাকে রাসূল (সা.) নিষেধ করলেন না কেন? কারণ ছোটোদের জন্য এটা ছাড় দেয়া হতে পারে, যেহেতু খেলা, কোনো পূজা করা নয়। [৩] সরল না হলেও তা পুতুল, মূর্তি নয় একারণেও অনুমো...

মাকতাদি জোরে আমিন বলবে নাকি আস্তে?

 মাকতাদি জোরে আমিন বলবে নাকি আস্তে?  রাসূল (সা.) মাকতাদিদেরকে আমিন বলতে বলেছেন—এমন সহীহ মারফূ হাদিস আছে; কিন্তু জোরে নাকি আস্তে—তা উল্লেখ নেই (ইমামের ক্ষেত্রে নয়, মাকতাদির ক্ষেত্রে)। কিন্তু সাহাবাদের আমল হিসেবে মাকতাদির ক্ষেত্রে আমিন জোরে ও আস্তে—উভয়েরই সহীহ মাউকূফ হাদিস আছে। তাহলে জোরে ও আস্তে—উভয়ের হাদিস এলো কই থেকে? সম্ভাব্য উত্তর হলো—রাসূল (সা.) বলেছেন, 'ইমাম যখন "ওয়ালাদ্দাল্লীন" বলে, তখন তোমরাও আমিন বলো।’ তখন কেউ জোরে বলেছেন, আবার কেউ আস্তে বলেছেন। আর রাসূল (সা.) কাউকে নিষেধ করেননি; এজন্য জোরে ও আস্তে—উভয় ধরনের সহীহ মাউকূফ হাদিস এসেছে। অথবা, রাসূল (সা.) জোরে বলতে বলেছেন, কিন্তু সবাই তা জানতো না অথবা বুঝতে পারেননি; তাই তাদের অনেকে সূরা ফাতিহার মতো আমিনও আস্তেও বলেছেন। আর রাসূল (সা.) তাদেরকে নিষেধ করেননি, কারণ জোরে বলা ফরজ নয়। অথবা, রাসূল (সা.) আস্তেই বলতে বলেছেন, কিন্তু অনেকে ভেবেছেন জোরে বলতে হবে, আর তারা জোরে বলেছেন, আর রাসূল (সা.) তাদেরকে নিষেধ করেননি, কারণ আস্তে বলা ফরজ নয়। [১] ইবনে উমর (রা.) বলেন, "যখন ইমাম 'ওয়ালাদ-দ্বল্লীন' বলবে, তখন তোমরা 'আমিন...

প্রশ্নবিদ্ধ সহীহ হাদিস:

 প্রশ্নবিদ্ধ সহীহ হাদিস:  নবী ﷺ বলেছেন, প্রতিদিন ইয়াজুজ-মাজুজ প্রাচীর খুঁড়ে খুঁড়ে প্রায় ভেদ করে ফেলে। সন্ধ্যায় তাদের নেতা বলে, "কাল খুঁড়বো।" তখন আল্লাহ প্রাচীরকে আগের মতো শক্ত করে দেন। একদিন তারা বলবে, "ইনশাআল্লাহ, কাল খুঁড়বো।” তখন আল্লাহ ইচ্ছা করলে তারা বের হয়ে আসবে। — (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৩৭; জামে তিরমিজি, হাদিস: ২১৮৩)  এই হাদিসকে সহীহ বা গ্রহণযোগ্য সহীহ পর্যায়ের বলেছেন—ইমাম মুসলিম, ইমাম তিরমিজি (হাসান সহীহ/গ্রহণযোগ্য সহীহ), ইমাম নববী, ইবনু হাজার, ইবন কাসির, শাইখ আল-আলবানি।  প্রশ্ন হলো, যুলকারনাইন বাদশাহ কি বোকা যে এমন দেয়াল বানাবেন যা এক দিনের মধ্যেই ছিদ্র হয়ে যায়? ইয়াজুজ-মাজুজ যখন একদিন দেখে যে দেয়ালটি আবার আগের মতো হয়ে গেছে, তখন তারা দ্বিতীয় দিন এবং বারবার কেন চেষ্টা করবে দেয়াল ভেদ করতে? তারা কি বোকা বা মানসিক রোগী? যদি তারা প্রকৃতিগতভাবে জন্তু-জানোয়ারের মতো হয় বা সবাই মানসিক রোগী হয়, তাহলে তারা মানুষের বংশধর হয় কীভাবে? প্রকৃতিগতভাবে যদি তারা জন্তু-জানোয়ারের মতো হয়, তাহলে যুলকারনাইন প্রাচীর বানানোর আগে ইয়াজুজ-মাজুজ কী করতো? তারা অতীতে পুরো বিশ্বজুড়ে বিশৃঙ্খলা ...

মালাকুল মাউত কি তার পরিচয় মূসা (আ.)-এর কাছে দিয়েছিলেন নাকি দেননি?

 হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত—মালাকুল মাউত (মৃত্যুর ফেরেশতা) মূসা (আ.)-এর কাছে পাঠানো হলো। তিনি যখন তাঁর কাছে এলেন, তখন মূসা (আ.) তাকে একটি আঘাত করলেন, ফলে তাঁর একটি চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হলো। মালাকুল মাউত তাঁর রবের কাছে ফিরে গিয়ে বললেন, "আপনি আমাকে এমন এক বান্দার কাছে পাঠিয়েছেন, যে মৃত্যু চায় না।" তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর চোখ ফিরিয়ে দিলেন এবং বললেন, "তুমি আবার তার কাছে ফিরে যাও এবং তাকে বলো—সে যেনো একটি বলদের পিঠে হাত রাখে। তার হাত যতো লোম ঢাকবে, প্রতিটি লোমের বিনিময়ে তাকে এক বছর করে জীবন দেয়া হবে।" মূসা (আ.) বললেন, "হে আমার রব! এরপর কী হবে?" আল্লাহ বললেন, "এরপর মৃত্যু।" মূসা (আ.) বললেন, "তাহলে এখনই।" এরপর তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন যেনো তাঁকে পবিত্র ভূমির (বায়তুল মুকাদ্দাসের) কাছাকাছি, একটি পাথর নিক্ষেপের দূরত্বে ইন্তেকাল করানো হয়। — (সহিহ বুখারি: হাদিস নং ১৩৩৯, ৩৪০৭; সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ২৩৭২) (১) মালাকুল মাউত তার পরিচয় দিয়েছেন নাকি দেননি তা হাদিসে বলা হয়নি। যদি পরিচয় না দিয়ে থাকেন, তাহলে মালাকুল মাউত আঘাতের শিকার কেন ...