মালাকুল মাউত কি তার পরিচয় মূসা (আ.)-এর কাছে দিয়েছিলেন নাকি দেননি?
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত—মালাকুল মাউত (মৃত্যুর ফেরেশতা) মূসা (আ.)-এর কাছে পাঠানো হলো। তিনি যখন তাঁর কাছে এলেন, তখন মূসা (আ.) তাকে একটি আঘাত করলেন, ফলে তাঁর একটি চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হলো। মালাকুল মাউত তাঁর রবের কাছে ফিরে গিয়ে বললেন, "আপনি আমাকে এমন এক বান্দার কাছে পাঠিয়েছেন, যে মৃত্যু চায় না।" তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর চোখ ফিরিয়ে দিলেন এবং বললেন, "তুমি আবার তার কাছে ফিরে যাও এবং তাকে বলো—সে যেনো একটি বলদের পিঠে হাত রাখে। তার হাত যতো লোম ঢাকবে, প্রতিটি লোমের বিনিময়ে তাকে এক বছর করে জীবন দেয়া হবে।" মূসা (আ.) বললেন, "হে আমার রব! এরপর কী হবে?" আল্লাহ বললেন, "এরপর মৃত্যু।" মূসা (আ.) বললেন, "তাহলে এখনই।" এরপর তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন যেনো তাঁকে পবিত্র ভূমির (বায়তুল মুকাদ্দাসের) কাছাকাছি, একটি পাথর নিক্ষেপের দূরত্বে ইন্তেকাল করানো হয়। — (সহিহ বুখারি: হাদিস নং ১৩৩৯, ৩৪০৭; সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ২৩৭২)
(১) মালাকুল মাউত তার পরিচয় দিয়েছেন নাকি দেননি তা হাদিসে বলা হয়নি।
যদি পরিচয় না দিয়ে থাকেন, তাহলে মালাকুল মাউত আঘাতের শিকার কেন হলেন? সম্ভবত মূসা (আ.) ভেবেছিলেন, অপরিচিত কেউ তার জীবন নিতে এসেছে। তাহলে মালাকুল মাউত আল্লাহর কাছে কেন বললেন না যে, তার পরিচয় মূসা (আ.)-এর কাছে স্পষ্ট ছিল না, বরং কেন বললেন যে, তিনি মারা যেতে চান না। মালাকুল মাউত যেভাবে আল্লাহকে বলেছেন যে, তিনি মারা যেতে চান না, তার অর্থ হলো, মালাকুল মাউত বলতে চাচ্ছেন, মূসা (আ.) স্বাভাবিক মৃত্যু চান না। কিন্তু পরিচয় দিলে তো মূসা (আ.) স্বাভাবিক মৃত্যুর জন্য রাজি হতে পারতেন। তাহলে সম্ভবত মালাকুল মাউত তার পরিচয় দিয়েছেন।
যদি পরিচয় দিয়ে থাকেন, তাহলে মূসা (আ.) কি তাকে আঘাত করবেন? সম্ভবত শুরুতে ভেবেছিলেন, অপরিচিত কেউ তার জীবন নিতে এসেছে, এজন্য আঘাত করেছেন, তারপর মালাকুল মাউত তার পরিচয় দিয়েছেন, তখন মূসা (আ.) বলেছেন, তিনি মারা যেতে চান না।
আবার, মালাকুল মাউত হয়তো তেমন বুদ্ধিমান নয়, তিনি আঘাত পেয়ে ধরেই নিয়েছেন যে মূসা (আ.) স্বাভাবিক মৃত্যু চান না। কিন্তু আল্লাহ তো সবই জানেন, আল্লাহ কেন মালাকুল মাউতকে বললেন না যে, তুমি তোমার পরিচয় ভালোভাবে দাও, তাহলেই মূসা (আ.) মারা যেতে চাইবেন।
Comments
Post a Comment