মনোবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত উক্তি :
⚫ মনোবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত উক্তি :
— আহসানুল ইরফান
(১) মানুষ যখন দ্রুত হাঁটে বা দ্রুত দৌড়োয় তখন স্লো মোশনের গান গাইতে পারে না, আর যখন ধীরে হাঁটে বা ধীরে দৌড়োয় তখন ফাস্ট গান গাইতে পারে না।
(২) কী ক্ষতি হতে পারে বা কেমন কষ্ট পেতে পারি তা আগেই কল্পনা করে ফেললে ভয় কমে যায়। যা পেতে ইচ্ছে করে তা আগেই অনেকবার কল্পনা করে ফেললে পাওয়ার ইচ্ছে কমে যায়। যাকে আঘাত দিতে ইচ্ছে করে তাকে মনে মনে অনেকবার আঘাত দিলে আঘাত দেয়ার ইচ্ছে কমে যায়....
(৩) মানুষ যখন অনেক সুখে থাকে তখন অতীতের কষ্টগুলো তার কাছে তেমন কষ্টের মনে হয় না। কিন্তু যখন কষ্টে থাকে তখন অতীতের কষ্টগুলোও আবার অনেক কষ্টের লাগে।
(৪) মানুষ নতুন থেকে নতুন কিছু পাওয়ার ইচ্ছে পূরণের দ্বারা সুখ পায়, মানুষের কাছে এক জিনিস সব সময় ভালো লাগে না। পুরোনো কোনো জিনিসও মানুষের কাছে নতুন লাগতে পারে, এভাবে যে, সে "দীর্ঘ সময় ধরে" অথবা কখনো তা দেখেনি বা পায়নি।
উদাহরণ: অনেক গ্রামের মানুষ শহরে ঘুরতে যায় আর অনেক শহরের মানুষ গ্রামে ঘুরতে যায়, কারণ গ্রামের মানুষের কাছে শহর নতুন আর শহরের মানুষের কাছে গ্রাম নতুন। অনেক সময় পুরোনো ছবিও দেখতে ভালো লাগে কারণ তখন সেটাই তার কাছে নতুন।
> আমি আমার রুমের চারপাশে তাকাই দেখি কতোকিছু, আমার রুমে ফ্যান আছে, লাইট আছে, খাট আছে, বালিশ আছে, টেবিল আছে আরও কতো কী। কিন্তু এগুলোর দ্বারা আমি সুখ পাই না। আমি সুখ পাই নতুন কিছু পাওয়ার দ্বারা। অতীতের মানুষের কাছে এগুলোর অনেক কিছু ছিলো না তবুও তারা সুখে ছিলো।
(৫.১) প্রত্যেক সুখ ও কষ্টই ক্ষণস্থায়ী। মানুষ যে সুখ চায় সে সুখ পাওয়ার আগ পর্যন্ত ওই সুখ অনেক বড়ো মনে হয় কিন্তু পাওয়ার কিছু বা অপেক্ষাকৃতভাবে দীর্ঘ-কিছু সময় পর তা স্বাভাবিক হয়ে যায়, এবং কষ্টের ক্ষেত্রেও তেমন।
> যখন যেটা গুরুত্বপূর্ণ লাগে তখন সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।
> যখন যেটা সুন্দর লাগে তখন সেটাই সবচেয়ে সুন্দর মনে হয়।
> যখন যেটা কষ্টের লাগে তখন সেটাই সবচেয়ে কষ্টের মনে হয়।
...
[৫.২] নির্দিষ্ট এক সুখ প্রতিবার একই রকম। তা প্রথমবার যেমন, দ্বিতীয়বার, তৃতীয়বার ও অসংখ্যবার ঠিক একই রকম। কিন্তু পাওয়ার আগে মানুষের কাছে মনে হয় তা এবার হয়তো ভিন্ন রকম হবে।
[৫.৩] প্রত্যেকেই আলাদা। একজনকে আমার যেভাবে ভালো লাগবে ঠিক ওভাবে অন্য কাউকে ভালো লাগবে না।
(৬) কষ্টের সময় কষ্টের জিনিস শুনতে বা দেখতে ভালো লাগে। ফলে বলতে পারি কষ্টও উপভোগ করা যায়। আনন্দের সময় আনন্দের জিনিস ভালো লাগে। আনন্দের সময় কষ্টের জিনিস ভালো লাগে না। নিরব সময় নিরব জিনিস ভালো লাগে, উত্তেজনার জন্য উত্তেজক জিনিস ভালো লাগে...
(৭.১) অনেক মানুষ আছে যারা যখন সুখে থাকে তখন মনে করে পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ তার মতোই সুখে আছে আর যখন কষ্টে থাকে তখন মনে করে পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ তার মতোই কষ্টে আছে কারণ সে তার নিজের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে রিজনিং করে এমন ফলাফল পায়।
যে ভালো সে অনেক সময় মনে করতে পারে অন্যরাও হয়তো তার মতোই ভালো। আবার যে খারাপ সে মনে করতে পারে অন্যরাও হয়তো তার মতোই খারাপ। যে মিথ্যাবাদী সে ভাবতে পারে অন্যজনও হয়তো তার মতোই....
[৭.২] সাধারণভাবে বললে, প্রত্যেকে নিজের কষ্টকে সবচেয়ে বড়ো কষ্ট মনে করে।
[৭.৩] আমরা অনেক সময় কিছু মানুষের অভ্যাস দেখে ভাবি ওরকম মানুষ হয়তো পৃথিবীতে কেবল একটিই আছে।
(৮.১) যে ব্যক্তি জীবনে অনেক ভুল করেছে তার ভেতর অন্যের প্রতি অবজ্ঞার অনুভূতি কম আসে আর যে ব্যক্তি জীবনে কম ভুল করেছে তার ভেতর অন্যের প্রতি অবজ্ঞার অনুভূতি বেশি আসে।
(৮.২) মানুষ অন্যের সে কষ্টই বোঝে যে কষ্ট সে বোঝে।
(৯.১) জীবনে কষ্ট না থাকলে মানুষের কাছে তা বোরিং লাগে আর তখন "কিছু মানুষ" আছে যারা নিজেই নিজেকে কষ্ট দেয়ার চেষ্টা করে, হায়ালি করা শুরু করে, উদ্ভট নানা কাজ করে।
[৯.২] মানুষ যখন নোংরা-খারাপ হয়ে যায় :
ক. খারাপ শব্দ ব্যবহার করে শান্তি পায়।
খ. হেয়ালি করে আনন্দ পায়। (অর্থাৎ অনেক কেয়ারলেস হয়ে যায়।)
গ. কোনো নিয়ম মানতে চায় না, নিয়ম কানুন অসহ্যকর মনে হয়।
ঘ. গায়ে উল্কি অর্থাৎ ট্যাটু করে এবং নোংরা নানা কাজ করে আনন্দ পায়।
ঙ. যেকোনো মানুষকে অহেতুক গালি দিয়ে শান্তি পায়।
চ. নারীদের প্রতি ভালোবাসা অনুভব করে না, তাদেরকে ভোগের বস্তু হিসেবে অনুভব করে, আর এমনটা নারীদের ক্ষেত্রেও অর্থাৎ পুরুষদের প্রতি ভালোবাসা অনুভব করে না, তাদেরকে ভোগের বস্তু হিসেবে অনুভব করে।
[৯.৩] অনেক শয়তান মানুষ ভালোদেরকে হয়রানি ও অত্যাচার করে আনন্দ পায়।
[৯.৪] সহজভাবে বললে, অজ্ঞদের সমাজে স্বাভাবিক মানুষ বোকা অথবা পাগলের মতো।
(১০.১) নিজেকে কখনো অবজ্ঞা করা যায় না, কিন্তু নিজের জন্য আপসোস করা যায়।
[১০.২] যারা ভালো মনের তারা হিংসা করে না, তারা আফসোস করে। তারা নিন্দা করে না, তারা উপদেশ দেয়।
[১০.৩] অসহনশীল মানুষ কষ্টের কাজের প্রতি অসহ্য অনুভব করে বেশি। আর সহনশীল মানুষ কষ্টের কাজের প্রতি আপসোস অনুভব করে বেশি।
(১১.১) তোমার চেয়ে বেশি যার আছে তাকে দেখে তোমার খারাপ লাগবে। আবার তার চেয়ে বেশি যে ব্যক্তির আছে সেই ব্যক্তিকে দেখে তার খারাপ লাগবে।
[১১.২] কারো কাছে টাকা বেশিকিছু, কারো কাছে জ্ঞান বেশিকিছু, কারো কাছে সৌন্দর্য বেশিকিছু...
[১১.৩] যা ভালোলাগে তা ঐ সময় মোন থেকে ঘৃণা করা যায় না।
[১১.৪] না থাকা অথবা না পারার কারণে খারাপ তখনই লাগবে যখন কোনো এক কিছু তোমার ভালো লাগে অথবা তুমি তা প্রয়োজনে চাও। নির্দিষ্ট কিছু ভালো না লাগলে অথবা নির্দিষ্ট কিছু প্রয়োজনে না চাইলে তা না থাকা অথবা না পারার জন্য খারাপ লাগবে না।
(১২) যা হাস্যকর তা কোনো না কোনো দিক থেকে কিছু পরিমাণ নিম্ন পর্যায়ের কিছু। যেমন— সে মোটা, বেশিই চিকন, পড়ে গেছে...
(১৩) বড়ো হতে হতে মানুষের ভেতর "স্বাভাবিকভাবেই" অনেক পরিবর্তন আসে। ছোটো থাকতে মানুষ লাফালাফি করতে ভালোবাসে, তার ভেতর লাফালাফি ভালোলাগার অনুভূতি থাকে। কিন্তু বড়ো হতে হতে ঐ অনুভূতিগুলো আর থাকে না, নতুন অনেক অনুভূতি জন্ম নেয়।
(১৪) চকচকে জিনিস অনেক আকর্ষণীয় এবং তার দ্বারা অনেক সুখ পাওয়া যায় কিন্তু চকচকে জিনিসের সাথে একটানা অনেক বেশিক্ষণ থাকলে মস্তিষ্কে অসহ্য আসে।
(১৫) যেকোনো বড়ো বিষয়ে ভালো হওয়া চর্চার বিষয়। যেমন — এ লেখা লেখার জন্যও অনেক চিন্তাচর্চার প্রয়োজন হয়েছে।
Comments
Post a Comment