Posts

Showing posts from February, 2026

গানবাজনা ও ইসলাম :

Image
গানবাজনা ও ইসলাম : [] Ringtone কিন্তু বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে তৈরি হয়। [] নাশিদ অর্থাৎ ইসলামি গানে শি-শি ধরনের এক ধরনের দীর্ঘ সময়ের আওয়াজ (music) ব্যবহার করা হয়, সেটাও বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে তৈরি হয়। [] নানা ইসলামি অনুষ্ঠান, যেমন— আলোকিত জ্ঞানি; সেখানে নানা কথা, যেমন— আলহামদুলিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ; এগুলোর সাথে নানা আওয়াজ (music) হয়, সেগুলো বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে তৈরি হয়। কুরআনে সূরা লোকমানে যে আয়াত (৩১:৬) দ্বারা আলেমরা গানবাজনাকে হারাম বলে, সেখানে যে শব্দ আছে তা হলো: লাহূও আল-হাদিস, যার অর্থ হলো মূলত তুচ্ছ বিনোদনের জন্য কথাবার্তা। এই শব্দের দ্বারা ওপরেরগুলো হারাম ঘোষণা করা সাধারণত যায় না। আবার বুখারীর যে হাদিসে বলা হচ্ছে, রাসুল (সা.)-এর উম্মতের কিছু লোক মদ, যিনা, রেশম ও মায়াজিফ (বাদ্যযন্ত্র)-কে হালাল মনে করবে। এখানে রেশমের কথাও আছে, কিন্তু আমরা জানি যে রেশম নারীদের জন্য শুরু থেকেই হালাল। ফলে এখানে রেশমের বেলায় কেবল পুরুষদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে। তাহলে বাদ্যের বেলাতেও কিছু বাদ্য থাকতে পারে, যা অন্য ক্ষেত্রে হালাল। দফ ছাড়া অন্য সব বাদ্যযন্ত্রগুলোর কিছু হালাল হবে কিনা তা সন্দেহজনক। আর সন্দ...

খিলাফত ও শরীয়াহ যেহেতু বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণের সমর্থন পাবে না, তাহলে গণতান্ত্রিক দেশে মুসলিমদের কি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার যেসব পদ রয়েছে সেগুলোতে থেকে রাষ্ট্রের জন্য কাজ করা হারাম— এমনকি যদি রাষ্ট্রের জন্য কাজ করার প্রয়োজনও থাকে? মুসলিমদের কি তাহলে ক্ষমতার কোনো প্রয়োজন নেই? তারা কি ক্ষমতা অধার্মিকদের হাতে ছেড়ে দেবে?

খিলাফত ও শরীয়াহ যেহেতু বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণের সমর্থন পাবে না, তাহলে গণতান্ত্রিক দেশে মুসলিমদের কি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার যেসব পদ রয়েছে সেগুলোতে থেকে রাষ্ট্রের জন্য কাজ করা হারাম— এমনকি যদি রাষ্ট্রের জন্য কাজ করার প্রয়োজনও থাকে? মুসলিমদের কি তাহলে ক্ষমতার কোনো প্রয়োজন নেই? তারা কি ক্ষমতা অধার্মিকদের হাতে ছেড়ে দেবে? নবুওয়াতের আগে রাসূল (সা.) 'হিলফুল ফুদূল' নামে একটি ন্যায়ভিত্তিক সামাজিক জোটে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিলো মক্কায় অত্যাচারিতদের অধিকার রক্ষা করা। পরে তিনি বলেন, "ইসলামের যুগেও যদি আমাকে এ ধরনের চুক্তির জন্য ডাকা হতো, আমি অবশ্যই সাড়া দিতাম।" — (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং: ১৬৫৫) এটি প্রমাণ করে যে ন্যায় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তিনি প্রাক-ইসলামী সমাজের উদ্যোগেও অংশ নিয়েছিলেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক ঘটনা উল্লেখ করা যায়। যেমন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ওপর পরিচালিত অভিযানে হতাহতের ঘটনা ঘটে। কোনো ইসলামী দল ক্ষমতায় থাকলে এমন ঘটনা ঘটতো না। বিভিন্ন সময়ে জনপ্রিয় আলেমদের মাহফিল নিষিদ্ধ করা বা মাইক কেড়ে নেয়ার ঘটনাও হয়তো ঘটতো না। এছাড়া ২০১৩ সাল এবং ২০২১ ...

পুতুল দিয়ে খেলা কি জায়েজ?

হযরত আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, "আমি নবী ﷺ–এর ঘরে পুতুল দিয়ে খেলতাম। আমার কিছু বান্ধবীও আমার সঙ্গে খেলতো। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন ঘরে প্রবেশ করতেন, তারা লজ্জায় সরে যেতো। তখন তিনি তাদের আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন, যেনো তারা আমার সঙ্গে খেলতে পারে।" — (সহিহ বুখারি, কিতাবুল আদব, হাদিস নং ৬১৩০, সহিহ মুসলিম, কিতাবু ফাযায়িলিস সাহাবা, হাদিস নং ২৪৪০) পুতুল তো মূর্তি তাহলে রাসূল (সা.) তা অনুমোদন করলেন কেন? (১) পুতুলটির গঠন সরল ছিলো এজন্য।  (২) আয়েশা (রা.)-এর বয়স কম ছিলো একারণে এটি একটি ছাড় দেয়া। (৩) সরল না হলেও তা পুতুল ছিলো, মূর্তি নয় এ জন্য।  __________________________________________________ [১] সরল হলেও তো সেটা মূর্তি তাহলে সেটা অনুমোদন করলেন কেন? না, তিনি দেখলেন যে সরল ফলে তেমন মূর্তির মতো নয় এ কারণেই অনুমোদন করেছেন। [২] যদি ছোটো মানুষ কোনো ভুল কাজ করে তবুও তো রাসূল (সা.) নিষেধ করবেন। তাহলে পুতুল যা হলো একধরনের মূর্তি সেটা দিয়ে খেলাকে রাসূল (সা.) নিষেধ করলেন না কেন? কারণ ছোটোদের জন্য এটা ছাড় দেয়া হতে পারে, যেহেতু খেলা, কোনো পূজা করা নয়। [৩] সরল না হলেও তা পুতুল, মূর্তি নয় একারণেও অনুমো...

মাকতাদি জোরে আমিন বলবে নাকি আস্তে?

 মাকতাদি জোরে আমিন বলবে নাকি আস্তে?  রাসূল (সা.) মাকতাদিদেরকে আমিন বলতে বলেছেন—এমন সহীহ মারফূ হাদিস আছে; কিন্তু জোরে নাকি আস্তে—তা উল্লেখ নেই (ইমামের ক্ষেত্রে নয়, মাকতাদির ক্ষেত্রে)। কিন্তু সাহাবাদের আমল হিসেবে মাকতাদির ক্ষেত্রে আমিন জোরে ও আস্তে—উভয়েরই সহীহ মাউকূফ হাদিস আছে। তাহলে জোরে ও আস্তে—উভয়ের হাদিস এলো কই থেকে? সম্ভাব্য উত্তর হলো—রাসূল (সা.) বলেছেন, 'ইমাম যখন "ওয়ালাদ্দাল্লীন" বলে, তখন তোমরাও আমিন বলো।’ তখন কেউ জোরে বলেছেন, আবার কেউ আস্তে বলেছেন। আর রাসূল (সা.) কাউকে নিষেধ করেননি; এজন্য জোরে ও আস্তে—উভয় ধরনের সহীহ মাউকূফ হাদিস এসেছে। অথবা, রাসূল (সা.) জোরে বলতে বলেছেন, কিন্তু সবাই তা জানতো না অথবা বুঝতে পারেননি; তাই তাদের অনেকে সূরা ফাতিহার মতো আমিনও আস্তেও বলেছেন। আর রাসূল (সা.) তাদেরকে নিষেধ করেননি, কারণ জোরে বলা ফরজ নয়। অথবা, রাসূল (সা.) আস্তেই বলতে বলেছেন, কিন্তু অনেকে ভেবেছেন জোরে বলতে হবে, আর তারা জোরে বলেছেন, আর রাসূল (সা.) তাদেরকে নিষেধ করেননি, কারণ আস্তে বলা ফরজ নয়। [১] ইবনে উমর (রা.) বলেন, "যখন ইমাম 'ওয়ালাদ-দ্বল্লীন' বলবে, তখন তোমরা 'আমিন...