মুহাম্মদ (সা.)-কে কি এই প্রশ্ন করা হয়েছিলো?
মুহাম্মদ (সা.) কি কখনো ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-কে বলেছিলেন যে, আপনি কেন শুধু আমার কাছেই আসেন, অন্যদের কাছে গেলেই তো সব পরিষ্কার হয়ে যায়? জাহান্নামের শাস্তি কীভাবে ন্যায়সংগত? আল্লাহ চাইলেই তো সব সমস্যা সমাধান করে দিতে পারেন; আল্লাহ তা করছেন না কেন... এসব প্রশ্ন তিনি কি কখনো করেছিলেন, আর না করলেও কেন করেননি? আর সাহাবীরাও কি কখনো এসব প্রশ্ন মুহাম্মদ (সা.)-কে করেছিলেন? না করলে কেন করেননি?
১. মুহাম্মদ (সা.)-এর সব কথা ও কাজ সংরক্ষিত হয়নি। সব কথা ও কাজ সহীহ হাদিসে নেই। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, হাদিসের যে অংশ নির্ভরযোগ্যভাবে সংরক্ষিত হয়েছে, তা-ই আল্লাহর পক্ষ থেকে হেফাজতে রাখা জ্ঞান, এবং আমাদের জন্য সেটুকুই যথেষ্ট।
২. মুহাম্মদ (সা.) কেন জিজ্ঞেস করেননি? = মুহাম্মদ (সা.) হয় এসব প্রশ্নের উত্তর ভালোভাবে জানতেন, অথবা হয়তো তিনি ভেবেছিলেন—এসব প্রশ্ন করে বা এগুলো বলে তো কোনো লাভ হবে না। আমাদের সাধারণ দোয়া কবুল হয়, কিন্তু আমরা যদি দোয়া করি—আল্লাহ আমাকে সবার সামনে উড়িয়ে দেখাও, আল্লাহ কি সবক্ষেত্রে তা করবেন? মুহাম্মদ (সা.) আগে থেকেই ধার্মিক ছিলেন, তিনি জানতেন—সব রকমের দোয়া কবুল হয় না, সব রকমের প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় না। আমরা আল্লাহর থেকে কুরআন পেয়েছি, কিন্তু সব প্রশ্নের কি উত্তর পেয়েছি? নবীরা অনেক কিছু জেনেছেন, কিন্তু সবই কি জেনেছেন? তারা গায়েবের ব্যাপারে সব জানতেন না। আমরা অনেক কিছু না জেনেও ঈমান এনেছি, তারাও অনেক কিছু না জেনেও ঈমান এনেছিলেন। তাদেরও জানার ও প্রশ্ন করার সীমাবদ্ধতা ছিল।
৩. সাহাবীরা কি জিজ্ঞেস করেছেন? = সাহাবিরা বিভিন্ন সময় মুহাম্মদ (সা.)-কে নানা প্রশ্ন করতেন এবং তিনি সেগুলোর উত্তর দিতেন। তবে সব প্রশ্ন ও উত্তর হাদিস আকারে সংরক্ষিত হয়নি। সব কিছু কেউ লিখে রাখেননি, আর সবই যে মুখস্থ ছিল—তা-ও নয়।
সাহাবিরা মুহাম্মদ (ﷺ)-কে অনেক জটিল প্রশ্নও করেছেন:
যেমন—
যারা পাগল বা শিশু, তারা পরকালে কীভাবে বিচার পাবে? কিংবা এর কাছাকাছি ধরনের প্রশ্ন।
রাসূল (ﷺ) বলেছেন, "তিন প্রকার লোকের থেকে কলম (অর্থাৎ হিসাব ও দায়িত্ব) উঠিয়ে নেয়া হয়েছে,
১. ঘুমন্ত ব্যক্তি, যতোক্ষণ না সে জেগে ওঠে।
২. শিশু, যতোক্ষণ না সে বয়ঃসন্ধি লাভ করে। এবং
৩. পাগল, যতোক্ষণ না সে সুস্থ হয়।"
— (সুনান আবু দাউদ, হাদিস নম্বর: ৪৪০৩)
কেউ জিজ্ঞেস করলো, "হে আল্লাহর রাসূল! যারা কোনো নবি'র কথা শুনেনি, যেমন পাগল, শিশু, বৃদ্ধ, তাদের কী হবে?"
নবি (ﷺ) বললেন, "কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের জন্য একজন রসূল পাঠাবেন। তারা যদি মানে, তারা মুক্ত; না মানলে ধ্বংস হবে।" — (মুসনাদ আহমদ)
সাহাবিরা বললেন, "আল্লাহ তো রহিম, তাহলে কেন তিনি জাহান্নাম সৃষ্টি করলেন?"
উত্তরে, "আমার আযাব, আমি যাকে ইচ্ছা তা দিয়ে শাস্তি দিই; কিন্তু আমার রহমত সব কিছুকে ছাপিয়ে গেছে।"— (কুরআন, ৭:১৫৬)
সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, "ছোট শিশু যদি মারা যায়, সে কি জান্নাতে যাবে?"
নবি (ﷺ) বললেন, "হ্যাঁ, তারা জান্নাতের পাখিদের মতো উড়ে বেড়ায়।" — (সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ২৬৩৫)
একজন জিজ্ঞেস করলো, "হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতিরা কি সন্তান জন্ম দেবে?”
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, "হ্যাঁ, সন্তান জন্ম নেবে। তবে সেই সন্তান কোনো কষ্ট করবে না (অর্থাৎ প্রসব যন্ত্রণা বা লালন-পালন প্রয়োজন হবে না), বরং সে এক মুহূর্তেই পূর্ণ বয়সের তরুণ হয়ে যাবে।" — (মুসলাদ আহমাদ, হাদিস নম্বর: ১৬২৪৫)
"তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে আমাদের বলো—এই রূহ (আত্মা) কী?" — (কুরআন, ১৭:৮৫)
উত্তরে, "রূহ আমার প্রভুর আদেশের বিষয়, আর তোমাদেরকে খুব সামান্য জ্ঞানই দেয়া হয়েছে।" — (কুরআন, ১৭:৮৫)
একজন প্রশ্ন করলো, "দোয়া কি নিয়তিকে বদলায়, নাকি সবই নির্ধারিত?"
রাসূল (ﷺ)-এর জবাব, "দোয়া কাদারকে ঠেকিয়ে দেয়, তা নাযিল হওয়ার আগেই।" — (তিরমিযী, হাদিস নম্বর: ২১৩৯)
"আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন, আবার যাকে ইচ্ছা গোমরাহ করেন—তাহলে গোমরাহদের দোষ কী?"
উত্তরে, "আল্লাহ গোমরাহ করেন সেইসব লোকদের, যারা নিজেই সত্য প্রত্যাখ্যান করে।" — (কুরআন, ২:২৬)
Comments
Post a Comment