কিয়াস পরিত্যাগ করে মানুষের জন্য অধিক উপযোগী হুকুম গ্রহণ করাই ইস্তিহসান বলে।
কিয়াস পরিত্যাগ করে মানুষের জন্য অধিক উপযোগী হুকুম গ্রহণ করাই ইস্তিহসান বলে।
অনেক ক্ষেত্রে ইস্তিহসান করার প্রয়োজন হতে পারে। যেমন— রাসূল (সা.)-এর যুগে বহুবিবাহ অনেক স্বাভাবিক ছিলো, তাই সে সময়ে একজন নারী জানতো যে তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারে। কিন্তু বর্তমান সময়ে যখন একজন নারী বিয়ে করে, তখন সে এ বিশ্বাস নিয়ে বিয়ে করে যে তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করবে না। কোনো পুরুষ দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলে স্ত্রীর অনুমতি নেয়া ফরজ হতে পারে না; কারণ এমন হলে অতীতেও কেউ অনুমতি দিতো না। কিন্তু স্ত্রীকে জানানো ইস্তিহসান অনুযায়ী বর্তমান সমাজে ওয়াজিব হওয়া প্রয়োজন, কারণ আর সূরা নিসা, আয়াত ৩ অনুযায়ী বর্তমান সময়ে না জানালে তা অন্যায় হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিছু প্রেক্ষাপটে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে। ছবি তোলা আয়নায় দেখার সঙ্গে তুলনা করে অনেক আলেম জায়েজ বলেন; কারণ ছবি হলো আলোকবিন্দু (পিক্সেল), যতোক্ষণ না তা প্রিন্ট করা হচ্ছে। আর যেহেতু আয়না বানানো জায়েজ, তাই তারা বলেন ক্যামেরা বানানোও জায়েজ। তবে ছবি প্রিন্ট করা নাজায়েজ। আয়নায় তো চেহারা ধারণ হয় না, কিন্তু ক্যামেরার ছবিতে তা ধারণ হয়; তবে স্থিতিশীল হিসেবে ধারণ হয় না, বরং বাইনারিতে ধারণ হয় বলে অনেকে জায়েজ বলেন। এ কারণে ছবি তোলা সন্দেহজনক বিষয়ের মধ্যে পড়ে। আর সন্দেহজনক বিষয়ের ভেতরে যেটা অন্য স্পষ্ট হারামের দিকে ধাবিত করে, তা হারাম; আর যা অন্য স্পষ্ট হারামের দিকে ধাবিত করে না, তা মাকরূহ। ছবি তোলা যদি ভবিষ্যতে হারাম প্রমাণিত হয়, তাহলে ভিডিও প্রয়োজন ছাড়া করাও হারাম হবে। কিন্তু বর্তমান সময়ে মানুষ বিনোদনের জন্য ভিডিওর ওপর নির্ভরশীল, যা বিশেষ প্রয়োজন নয়; কিন্তু ইস্তিহসান অনুযায়ী তা হালাল হতে পারে। ভবিষ্যতে যখন হিউম্যানয়েড রোবট আসবে এবং সবাই (পুরো সমাজজুড়ে) বিনোদনের ক্ষেত্রে হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহার করবে, তখন হিউম্যানয়েড রোবট ইস্তিহসান অনুযায়ী হালাল হতে পারে। আয়েশা (রা.) যে পুতুল দিয়ে খেলতেন, তা কি সরল প্রকৃতির ছিলো বলে জায়েজ করা হয়েছিলো, নাকি পুতুল বলেই— সরল না হলেও— জায়েজ করা হয়েছিলো, এ নিয়ে বিতর্ক থাকবে। যদি ভবিষ্যতে এটা প্রমাণ হয় যে সরল ছিলো বলেই জায়েজ করা হয়েছিলো, আর যদি ভবিষ্যতে সব শিশুই সরল নয় এমন পুতুল ছাড়া পুতুল না পায়, তাহলে ইস্তিহসান অনুযায়ী সরল নয় এমন পুতুল দিয়েও খেলা জায়েজ হতে পারে; যখন পুতুল দিয়ে খেলা বিশেষ প্রয়োজন নয়। যদি কার্টুন-এনিমেশন করা হারাম হয়, কিন্তু ভবিষ্যতের যদি পুরো সমাজে শারীরিক খেলাধুলার বিকল্প হিসেবে ভিডিও গেম আসে, তাহলে ইস্তিহসান অনুযায়ী হালাল ভিডিও গেম হালাল হতে পারে আর ভিডিও গেম তো বিশেষ প্রয়োজন নয়।
Comments
Post a Comment