ফেরেশতা কি বলেছিলেন যে, ১ ঘণ্টা পরে 'ইনশাআল্লাহ' বলবেন, যার কারণে সুলাইমান (আ.) 'ইনশাআল্লাহ' বলতে ভুলে গেছেন?
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— হযরত সুলাইমান ইবন দাউদ (আ.) বললেন, "আজ রাতে আমি নব্বই জন স্ত্রীর কাছে যাবো; প্রত্যেকেই একটি করে পুত্র সন্তান জন্ম দেবে, যে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করবে।” তখন একজন ফেরেশতা তাকে বললেন, "ইনশাআল্লাহ বলুন।" কিন্তু তিনি তা বললেন না। এরপর তিনি তাঁদের কাছে গেলেন; কিন্তু একজন স্ত্রী ছাড়া আর কেউ সন্তান জন্ম দিলো না, এবং সে সন্তানও ছিলো অর্ধ-গঠিত। এরপর নবী (সা.) বলেন— "যদি তিনি 'ইনশাআল্লাহ' বলতেন, তবে প্রত্যেক স্ত্রী সন্তান জন্ম দিতো এবং তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করতো।”
— (সহীহ আল-বুখারী, হাদীস নম্বর: ৬৬৩৯ (কিছু সংস্করণে ভিন্ন নম্বর)
[] ৬০ জন স্ত্রী — কিছু নির্দিষ্ট রেওয়ায়েতে এসেছে, ৭০ জন স্ত্রী — কিছু বর্ণনায় এসেছে, ৯০ জন স্ত্রী — এমন রেওয়ায়তও রয়েছে, ১০০ জন স্ত্রী — অন্য রেওয়ায়তে উল্লেখ আছে।
(১) সোলাইমান (আ.) কি অহংকারবশত 'ইনশাআল্লাহ' বলেননি? = অহংকারবশত নয়।
<?> ফেরেশতা কি বলেছিলেন যে, ১ ঘণ্টা পরে 'ইনশাআল্লাহ' বলবেন, যার কারণে সুলাইমান (আ.) 'ইনশাআল্লাহ' বলতে ভুলে গেছেন?
= এটি ছিলো আশেপাশের পরিবেশের কারণে মুহূর্তের অসতর্কতা।
(২) যদি তিনি রাত ৭টায় শুরু করেন এবং সকাল ৫টায় শেষ করেন, তাহলে মোট ১০ ঘণ্টা। ১০ ঘণ্টা=১০×৬০=৬০০ মিনিট। যদি একজনের সাথে সহবাস করতে ৬ মিনিট লাগে, তাহলে ১০০ জনের সাথে সহবাস করতে লাগবে— ১০০×৬ = ৬০০মিনিট। এর পাশাপাশি যাতায়াতের সময়ও আছে। তাহলে এটা কীভাবে সম্ভব? = প্রথমত, এটি অলৌকিক ঘটনা ছিলো। দ্বিতীয়ত, আমি যদি বলি, "আজ রাতে আমি সব বই পড়ে শেষ করবো", তার মানে কি পড়া শেষ করতে করতে সকাল হতে পারে না? আর দ্রুত বির্যপাতের বিষয়টি আছে, স্ত্রীর সংখ্যার বিষয়টি তো আছে এবং কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী সুলাইমান (আ.) আল্লাহর অনুমতিতে জ্বীনদের সাহায্যে অত্যন্ত দ্রুত কাজ করাতে পারতেন।
(৩) এটা কি একজন নবীর চরিত্রের সাথে সাংঘর্ষিক নয় যে, তিনি একসাথে পর পর অনেকগুলো স্ত্রীর সাথে সহবাস করবেন? = তিনি যদি সন্তান নেয়ার উদ্দেশ্যে এমন করেন তাহলে মোটেই সাংঘর্ষিক নয়।
Comments
Post a Comment