মূসা (আ.) আজরাইল (আ.)-কে চড় মেরেছিলো।

 হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত— মালাকুল মাউত (মৃত্যুর ফেরেশতা) মূসা (আ.)-এর কাছে পাঠানো হলো। তিনি যখন তাঁর কাছে এলেন, তখন মূসা (আ.) তাকে একটি আঘাত করলেন, ফলে তাঁর একটি চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হলো। মালাকুল মাউত তাঁর রবের কাছে ফিরে গিয়ে বললেন, “আপনি আমাকে এমন এক বান্দার কাছে পাঠিয়েছেন, যে মৃত্যু চায় না।” তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর চোখ ফিরিয়ে দিলেন এবং বললেন, “তুমি আবার তার কাছে ফিরে যাও এবং তাকে বলো— সে যেন একটি বলদের পিঠে হাত রাখে। তার হাত যত লোম ঢাকবে, প্রতিটি লোমের বিনিময়ে তাকে এক বছর করে জীবন দেওয়া হবে।” মূসা (আ.) বললেন, “হে আমার রব! এরপর কী হবে?” আল্লাহ বললেন, “এরপর মৃত্যু।” মূসা (আ.) বললেন, “তাহলে এখনই।” এরপর তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন যেন তাঁকে পবিত্র ভূমির (বায়তুল মুকাদ্দাসের) কাছাকাছি, একটি পাথর নিক্ষেপের দূরত্বে ইন্তেকাল করানো হয়। — (সহিহ বুখারি: হাদিস নং ১৩৩৯, ৩৪০৭, সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ২৩৭২)

(১) আজরাইল (আ.) কি শক্তিশালী নন যে আঘাত প্রতিহত করতে পারলেন না?

= ফেরেশতার শক্তি আল্লাহর আজ্ঞা অনুযায়ী সীমিত হয়। এখানে ঘটনাটি এক ধরনের পরীক্ষা ও আল্লাহর নির্দেশ। আঘাত হওয়ার মানে তাদের ক্ষমতা কম নয়, বরং আল্লাহ ইচ্ছা করেছেন ঘটনাটি এমনভাবে ঘটুক।

(২) আজরাইল (আ.) যিনি নিজের রূপ পরিবর্তন করতে পারেন, তিনি কি তার নিজের চোখ ঠিক করতে পারেন না?

= ফেরেশতারা নিজে রূপ পরিবর্তন করতে পারেন না বা নিজের ক্ষত ঠিক করতে পারেন না। সব ক্ষমতা আল্লাহর হাতে, ফেরেশতারা আল্লাহর আজ্ঞা অনুযায়ী কাজ করে। হাদিসে এসেছে যে আল্লাহ তাঁর চোখ ঠিক করেছেন। এটি আমাদের শেখায় যে, ফেরেশতাদের ক্ষমতা আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল। তারা স্বতঃসিদ্ধ নয়; আল্লাহ চাইলে তারা অনেক কিছু করতে পারেন, না চাইলে কিছুই করতে পারেন না।

Comments

Popular posts from this blog

অলৌকিক ঘটনা কি কেবল নবি রসূলদের সাথেই ঘটে?

ইসলামে চুরির শাস্তি

দার্শনিক নানা বিষয় একত্রে :