তার মানেই এ নয় যে
তার মানেই এ নয় যে:
— আহসানুল ইরফান
(কুরআন, হাদিসের সরাসরি অনুবাদ নয়, সুক্ষ্ম ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে আমি যতোটুকু বুঝতে পারলাম তার ভিত্তিতে লেখা।)
[] যাচাই করে দেখতে হবে তার মানেই এ নয় যে আপনি সবই যাচাই করে দেখবেন। ধরুন কেউ আপনাকে চড় মারলো আর আপনি তখন নেটে সার্চ দিলেন "প্রতিশোধ তোলা হালাল নাকি হারাম?"। কিছু জিনিস আপনাকে নিজের নৈতিকতা অনুযায়ী বিবেচনা করতে হবে, আর কিছু জিনিস আপনাকে কুরআন হাদিস থেকে জানতে হবে। আবার, কিছু জিনিস আপনাকে যাচাই করতে হবে, আর কিছু জিনিস আপনাকে বিশ্বাসের ওপর ছেড়ে দিতে হবে বা বিশ্বাস করে নিতে হবে।
হিন্দু ধর্ম বলে— সব ধর্ম ত্যাগ করে কৃষ্ণের শরণাগত হও।
ইসলাম বলে— আল্লাহর কাছে মনোনীত একমাত্র ধর্ম ইসলাম।
খ্রিস্টধর্ম বলে— যিশু বলেন, "আমিই পথ ও সত্য ও জীবন, আমি ছাড়া কেউ পিতার (স্রষ্টার) কাছে যেতে পারবে না।"
কিন্তু আগের কিতাবগুলো অনেককিছু —সবকিছু নয়— বিকৃত হয়ে গেছে। তাই সেগুলো আর পুরোপুরি সঠিক নেই। আপনি যদি কোনো লেখকের বই পড়তে চান, আপনি তো লেটেস্ট সংস্করণই কিনবেন, তাই না? মুসলিমরা বিশ্বাস করে সেই লেটেস্ট সংস্করণ হলো কুরআন। আগের কিতাবগুলো একসময় সম্পূর্ণভাবে সঠিক ছিল, কিন্তু পরে তার অনেককিছু বিকৃত হয়ে গেছে।
যাচাই করে দেখার প্রয়োজনীয়তা:
প্রত্যেকে তার জায়গা থেকে যতোটুকু সম্ভব সত্যের সন্ধান করতে হবে। সবাই যদি শুধু নিজের মতামত অনুযায়ী কাজ করে— যার কাছে যা সঠিক মনে হয় সেটাই করলো— তাহলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে নিজের মতামতকে একেবারেই গুরুত্ব দেয়া যাবে না। কিছু ক্ষেত্রে সত্যের সন্ধান, আবার কিছু ক্ষেত্রে নিজের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া— দুটোই প্রয়োজন।
যাচাই করার নানা উপায় আছে:
প্রত্যেকেরই তার জায়গা থেকে সত্য জানার অনেক সুযোগ আছে। যেমন: একজন ডাক্তার একজন রোগীর শরীরের জটিল প্রক্রিয়া ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দেখে বুঝবেন একজন স্রষ্টা আছেন; একজন সাধারণ পুরুষ অথবা নারী নিজের শরীরের গঠন অথবা তার সন্তান-সন্ততি দেখে বুঝবেন একজন স্রষ্টা আছেন; একজন বিজ্ঞানী গ্রহ-তারা-নক্ষত্র দেখে বুঝবেন একজন স্রষ্টা আছেন।
ধরুন কেউ একজন জিজ্ঞেস করলো: প্রাণী ও উদ্ভিদ উভয়েরই জীবন আছে, কিন্তু প্রাণী জবাই করার সময় বিসমিল্লাহ বলতে হয়, কিন্তু উদ্ভিদ কাটার সময় বলতে হয় না— কেন?
একজন ইঞ্জিনিয়ার বলবে: সাইকেল ও মোটরসাইকেল দুটোই সাইকেল, কিন্তু শুধু সাইকেলে প্যাডেল করতে হয়, মোটরসাইকেলে নয়।
একজন মহিলা বলবে: ভাপা পিঠা ও দুধ পিঠা দুটোই পিঠা, কিন্তু ভাপা পিঠায় নারিকেল দিতে হয়, দুধ পিঠায় নয়।
একজন ডাক্তার বলবে: সিরাপ ও বিষ দেখতে একই রকম, কিন্তু উপযুক্ত সিরাপ উপযুক্ত পরিমাণ খেলে উপকার হবে, বিষ খেলে মৃত্যু হবে।
এভাবে সত্যকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে বোঝা সম্ভব।
— কিন্তু তার মানে কি কুরআন-হাদিসের দরকার নেই? না, কুরআন-হাদিস প্রয়োজন আছে। এর পাশাপাশি বোঝার নানা উপায়ও আছে যেগুলো কুরআন-হাদিসে সরাসরি উল্লেখ নেই।
[] চেষ্টা করে দেখতে হবে তার মানেই এ নয় যে আপনি না পারলেও চেষ্টা করতে হবে, আর না পারলে আল্লাহ আপনাকে জাহান্নামে দেবেন।— আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে বোঝা দেন না।
[] কাফের মুসরিক মানেই এ নয় যে একজন সাধারণভাবেই সত্য বুঝতে পারেনি আর সে না বুঝতে পারার কারণে আল্লাহ তাকে জাহান্নামে রাখবেন। বরং কুরআন হাদিস থেকে বোঝা যায় কাফের মুশরিক হলো তারা যারা অহংকার করে বা অবজ্ঞা করার কারণে সত্যকে বুঝতে পারছে না এবং বার বার সুযোগ পাওয়ার পরেও তওবা করেনি।
স্রষ্টা যে এক, তা একটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি বা বিশ্বাস— যেটা নিয়ে প্রত্যেকেই জন্ম নেয়। কেউ যখন সমাজের ভুল বিশ্বাস দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এ বিশ্বাস থেকে সরে যায়, তখন আল্লাহ ন্যায়বিচার করবেন। কিন্তু সেই ন্যায়বিচারের খুঁটিনাটি সব আল্লাহ বলেননি। তবে কেউ যদি অহংকার বা অবজ্ঞার কারণে এ সত্যকে না বোঝে এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বহু সুযোগ পাওয়ার পরও তওবা না করে, তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না। আর যাদের কাছে কোনো নবি কিংবা রসূল পাঠানো হয়নি অথবা যারা সত্যকে ভুলভাবে জেনেছে, তাদের সঙ্গেও আল্লাহ ন্যায়বিচার করবেন, তবে সেই ন্যায়বিচার সম্পর্কে আল্লাহ বিস্তারিতভাবে বলেননি। আল্লাহ একজনের পরিস্থিতি, সুযোগ, চেষ্টা, বোঝাপড়া, ইচ্ছাকৃতভাবে করা, অনিচ্ছাকৃতভাবে করা এসবকিছু বিবেচনা করে একজনের বিচার করবেন। আর সেটার ভিত্তিতে অনেকে জান্নাতের উচু স্থান পাবে, নিম্ন স্থান পাবে, কেউ বেশি উচু স্থান পাবে, কেউ জাহান্নামের উচু স্থান পাবে, কেউ নিচু স্থান পাবে; কেউ বেশি কেউ কম।
[] কুরআনের অনন্তকাল জাহান্নাম মানেই সীমাহীন নয়:
আল্লাহ কুরআনে বলেছেন তিনি পরম করুনাময় ও অতী দয়ালু। তার মানে কি তিনি মানুষকে কষ্ট দেবেন না? আবার কষ্ট দেবন মানেই কি তিনি অন্যায়কারী?
কুরআনের যে অন্ততকাল সেটি হলো: ধরুন আমি কাউকে বললাম আমি তোমাকে চিরকাল ভালোবাসবো। তার মানেই কি সীমাহীনভাবে ভালোবাসবো?
কুরআনের জাহান্নামের স্থায়িত্ব সম্পর্কে জানা যায়: জাহান্নামের যে আকাশ ও জমিন তা যতোক্ষণ পর্যন্ত স্থায়ী থাকবে ততোক্ষণ পর্যন্ত জান্নাত জাহান্নামের অনেকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে।
[] ছোটো বাচ্চা মারা গেলে জান্নাতে যাবে কিন্তু বড়ো মানুষ জাহান্নামে যাওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তার মানেই এটা বড়োদের প্রতি অন্যায় নয়:
যারা ছোটো বাচ্চা তারা মারা গেলে জান্নাতে যাবে, কিন্তু জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান পাবেন মুহাম্মদ (সা.), তিনি কেবল "নবি" পরিচয়ের জন্য বা সমাজে তাকে নবি বলে ডাকা হয় বলে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান পাবেন না, তিন সর্বোচ্চ স্থান পাবেন কারণ তিনি জীবনে অনেক পরীক্ষার ভেতর দিয়ে গেছেন, অনেক কষ্টের ভেতর দিয়ে গিয়ে পরীক্ষায় পাস করেছেন। একারণে তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দেয়া হবে।
আল্লাহ একজনের পরিস্থিতি, সুযোগ, চেষ্টা, বোঝাপড়া, ইচ্ছাকৃতভাবে করা, অনিচ্ছাকৃতভাবে করা এসবকিছু বিবেচনা করে একজনের বিচার করবেন। তার ভিত্তিতে অনেকে জান্নাতের উচু স্থান পাবে, কেউ নিম্ন স্থান পাবে, কেউ বেশি উচু স্থান পাবে, কেউ জাহান্নামের উচু স্থান পাবে, কেউ নিচু স্থান পাবে; কেউ বেশি কেউ কম। তার মানেই এ নয় যে আমি ইচ্ছাকৃতভাবে পাপ কাজ করলাম, আর তারপর বললাম "আল্লাহ আমার কষ্ট বুঝবেননি", ইচ্ছাকৃতভাবে পাপ কাজ করলে আল্লাহ বরং শাস্তি দেবেন।
অনেকজনের সওয়াব আল্লাহ অনেক গুণ বাডিয়ে দেবেন, কিন্তু পাপকে তার আগের পরিমাণেই রাখবেন।
সবার শেষে যে জান্নাতে যাবে তাকে আল্লাহ ন্যূনতম এই দুনিয়ার ১০ গুণ সমপরিমাণ জান্নাত দান করবেন।
আল্লাহ মিযান দিয়ে পাপ পূন্যের হিসেব করবেন। তার মানেই এ নয় যে আল্লাহ মেপে দেখার ক্ষেত্রে মিযানের ওপর নির্ভরশীল। মানুষ সবকিছু তার নিজের মতো করে চিন্তা করে, কিন্তু তার মানে এটাও নয় যে আল্লাহ তায়ালার সাথে আমাদের কোনো দিক থেকে কোনো রকম মিল থাকতে পারে না। আবার মিল থাকা মানেও এ নয় যে সব দিক থেকেই মিল থাকবে।
<?> আমি আমার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, আর মুহাম্মদ (সা.) তাঁর অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। আমি আমার যুগে ধরুন দিন-রাত মিলিয়ে ১২ ঘন্টা পরিশ্রম করি — আমার দেখা সমস্যা সমাধান করতে, আর মুহাম্মদ (সা.) তার যুগে ধরুন দিন-রাত মিলিয়ে ১২ ঘন্টা পরিশ্রম করেছেন — তার দেখা সমস্যাগুলো সমাধান করতে। তাহলে কেন আমাকে জান্নাতে কম পুরস্কার দেয়া হবে আর মুহাম্মদ (সা.)-কে বেশি দেয়া হবে?
= ধরুন, আপনার তিনজন সন্তান আছে।
একজন মেধাবী হয়ে জন্ম নিয়েছে, তাই তাকে আপনি বড়ো দায়িত্ব দিলেন। আরেকজন সাধারণ মেধার, তাকে আপনি মাঝারি দায়িত্ব দিলেন। তৃতীয়জন দুর্বল হয়ে জন্ম নিয়েছে, তাকে আপনি ছোটো দায়িত্ব দিলেন।
এখন তিনজনই তাদের দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করলো। প্রশ্ন হলো—আপনি কি সবার জন্য একই পুরস্কার ঠিক করবেন?
অবশ্যই না। আপনি কাউকেই কষ্টে রাখবেন না, তবে পুরস্কারের মাত্রা ভিন্ন হবে। কেউ ভালো থাকবে, কেউ আনন্দে থাকবে, আর কেউ বেশি আনন্দে থাকবে।
> আপনি আপনার কোনো সন্তানকে বেশি ভালো বাসতেই পারেন, তার মানেই অন্য সন্তানকে ঘৃণা করা নয়।
> আল্লাহ পুরুষ্কার হিসেবে কাউকে বেশি দিতে পারেন, কিন্তু অন্যায় হিসেবে কাউকে কষ্ট দেন না। (কোনটা অন্যায় আর কোনটা অন্যায় নয় সেটা আল্লাহই ভালো জানেন।)
> আল্লাহ ন্যায়বিচার করে তো দেবেনই, কিন্তু অনেককিছু স্বেচ্ছায় কাউকে পুরুষ্কার হিসেবেও দিতে পারেন, তার মানেই এ নয় যে অন্য যাকে দেয়া হলো না তা সে ব্যক্তির প্রতি অন্যায়।
<?> একজন বিজ্ঞানী বিজ্ঞানে অবদান রাখে, একজন রাজনীতিবিদ রাজনীতিতে অবদান রাখে, কেবল ইসলামে অবদান রাখার জন্যই কেন একজন জান্নাতে যাবে?
একজন বিজ্ঞানীও মুসলিম হতে পারে, একজন রাজনীতিবিদও মুসলিম হতে পারে। একজন গায়কও যদি এমন কোনো গান গায় যেটাতে হারাম কোনো শব্দ নেই, বাদ্যযন্ত্র নেই (দফ হালাল), তাহলে সে গান গাওয়া হালাল।
ইসলামে যিনা করা হারাম, কিন্তু বিয়ে করা হারাম নয়।
আবার, ইসলামে যদি কেউ এমন কিছু আবিষ্কার করে যা মানুষের ক্ষতি করে, যেমন—পর্ন সাইট, সুইসাইড মেশিন, তাহলে তা হারাম। কিন্তু হালাল কিছু আবিষ্কার করলে তা হালাল।
যদি কেউ এমন গান গায় যেটাতে বাদ্যযন্ত্র আছে (দফ ছাড়া), অশ্লীল শব্দ আছে, অথবা ছেলে-মেয়ে একসাথে গেয়ে অশ্লীল পরিবেশ তৈরি হয়, তবে তা হারাম। কিন্তু যদি এমন গান গাওয়া হয় যেখানে বাদ্যযন্ত্র নেই (দফ ছাড়া), অশ্লীল শব্দ নেই এবং হারামের পরিবেশ তৈরি হয় না, তাহলে তা হালাল।
যদি এমন পরিস্থিতি হয় যে, কেউ ইংরেজি ভাষা শিখলে খ্রিস্টান হয়ে যাওয়ার “বড়ো” সম্ভাবনা থাকে, তাহলে “ঐ মুহূর্তে” ইংরেজি ভাষা শেখাও হারাম।
আবার, যদি যুদ্ধের ভেতর কেউ জোরে জোরে "আল্লাহু আকবার" বলে এবং সেই কারণে শত্রুরা মুসলিম সৈন্যদের অবস্থান জেনে ফেলে, তবে ঐ সময়ে "আল্লাহু আকবার" বলা যাবে না।
একজন কবির জন্য পরীক্ষা হতে পারে—সে যেনো এমন কোনো কবিতা না লেখে যা হারাম।
একজন বিজ্ঞানীর জন্য পরীক্ষা হতে পারে—সে যেনো এমন কিছু আবিষ্কার না করে, যেমন: পর্ন সাইট, সুইসাইড মেশিন ইত্যাদি।
একজন পুলিশের জন্য পরীক্ষা হতে পারে—সে যেনো তার ক্ষমতাকে হারাম কাজে ব্যবহার না করে।
একজন মানুষের জীবনে শুধু বিজ্ঞানের প্রয়োজন আছে এমন নয়, একজন মানুষের জীবনে খাবারেরও প্রয়োজন আছে, বিনোদনেরও প্রয়োজন আছে...। আর আল্লাহ একজনকে বিচার করবেন এগুলোর হারাম-হালালের ওপর নির্ভর করে, যা ধর্ম শেখায়, আর ধর্মেরও প্রয়োজন আছে।
[] কষ্ট, বিশৃঙ্খলা, অমিল থাকা মানেই আল্লাহ নেই এমন নয়:
পৃথিবীতে সুখ আছে, এজন্য কেউ আল্লাহ তায়ালায় বিশ্বাস করে।
আবার কষ্ট আছে, এজন্য অনেকে আল্লাহ তায়ালায় সন্দেহ করবে।
নানা মিল আছে (যেমন দুই চোখ, দুই হাত, নারী-পুরুষ), এজন্য অনেকে আল্লাহতে বিশ্বাস করবে।
আবার নানা অমিলও আছে (যেমন বিশৃঙ্খলা, বিকৃতি), এজন্য অনেকে আল্লাহ তায়ালায় সন্দেহ করবে।
আল্লাহ এমনভাবে করেন যাতে করে অনেকে সন্দেহ করে আবার অনেকে বিশ্বাসও করে। আল্লাহ এভাবে মানুষকে পরীক্ষা করেন।
হয় আল্লাহকে কেউ বানায়নি অথবা প্রকৃতিকে কেউ বানায়নি।
আল্লাহ স্বপ্নে নবি রসূলদেরকে অনেক কিছু দেখান— যেহেতু স্বপ্নে দেখান তাই অনেকে তা বিশ্বাস করে, আবার অনেকে তাতে সন্দেহ করে।
কষ্টের ভেতরও এক ধরনের মিল পাওয়া যায়। যেমন: একই কষ্ট অনেকে পায়, একই রোগ অনেকের হয়, একই বিশৃঙ্খলা অনেক জায়গায়...
[] পৃথিবীতে সুখ কষ্ট, দুখ আনন্দ, ভালো মানুষ খারাপ মানুষ, রাত দিন সবই আছে, সবই প্রয়োজন। তাই মানেই এ নয় যে অত্যাচারীরা প্রয়োজন বলে তারা জাহান্নামে যাবে না:
ছোট্ট সংলাপ:
A: পৃথিবীতে রঙ আছে, রাত-দিন আছে, ভালো-খারাপ মানুষ আছে, সুখ-কষ্ট আছে, বিভিন্ন ধর্ম আছে। সবই প্রয়োজন। যেকোনো একটি ধর্মই সঠিক হতে পারে না।
B: ভুল ধর্মও প্রয়োজন, সঠিক ধর্মও প্রয়োজন। জান্নাত যেমন দরকার, অনেকের জন্য জাহান্নামও দরকার। তবে ভুল ধর্ম প্রয়োজন ভুল করার জন্য, আর সঠিক ধর্ম প্রয়োজন সঠিক কাজের জন্য। খারাপ মানুষও প্রয়োজন, তবে তারা পরে শাস্তি পাবে; ভালো মানুষও প্রয়োজন, তারা পরে জান্নাতে থাকবে।
A: যদি ভুল ধর্মও প্রয়োজন হয়, তাহলে তা পালন করলে মানুষ জাহান্নামে কেন যাবে?
B: ধরো, তুমি জিহান নামে একজনকে খুন করলে। জিহান জীবনে যতো পাপ করেছে, সেই পাপের ভার তখন তোমার ওপর আসলো। পরকালে জিহান বললো: "আমি খুন হয়েছিলাম বলে জান্নাতে যাচ্ছি।" তখন কি তুমি বলবে: "আমি খুন করেছি বলেই সে জান্নাতে যাচ্ছে, তাই আমাকেও জান্নাত দেয়া হোক"? না। তুমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর উদ্দেশ্যে খুন করোনি; তুমি তার ওপর অন্যায় করতে তাকে খুন করেছিলে।
(ইসলাম অনুযায়ী কাউকে হত্যা করলে তার সব পাপ হত্যাকারীর ওপর বর্তাবে এমন নয়। এটা কেবল বোঝানোর জন্য উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে।)
A: তাহলে আমি যদি কাউকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর উদ্দেশ্যে খুন করি, আমরা উভয়ই কি জান্নাতে যাবো?
B: না। এখানে তুমি চালাকি করে জান্নাতে যেতে চাইছো। আল্লাহ বরং তোমাকে শাস্তি দেবেন।
যারা সব ধর্মকেই সমানভাবে সঠিক মনে করে, তারা নৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে ভোগবাদিতার দিকে ঝুঁকে পড়ে। অপরদিকে একজন ইসলাম অনুশীলনকারী সাধারণত আত্মসংযমী হয়।
[] চুরি করলে হাত কেটে দেয়া, এর মানেই এ নয় যে, চুরি করার সাথেই সাথেই হাত কেটে দেয়া হয়, হাত কেটে দেয়ার পেছনে নানা শর্ত আছে।
[] মুভি মানেই যে হারাম এমন নয়। ধরুন আমি এমন এক মুভি বানালাম যেটাতে কোনো বাদ্য নেই (বাদ্যের ভেতর 'দফ' হালাল), সে মুভিতে ছেলে মেয়ের মেলামেশা নেই, খারাপ কিছু নেই, সাধারণ কোনো ঘটনা অর্থাৎ তাতে খারাপকিছু নেই তাহলে সেই মুভি হালাল।
[] নানা ধর্ম ও মত ফলে বিভ্রান্তি, কিন্তু তার মানেই এ নয় যে আমরা সত্য বুঝতে পারবো না:
পৃথিবীতে অনেক ধর্ম আছে, অনেক মত আছে, তাই আমরা বুঝতে পারবো না যে কোনটি সঠিক ❌
পৃথিবীতে অনেক ধর্ম আছে, অনেক মত আছে— তাই আমরা "সম্পূর্ণভাবে" সবকিছু বুঝতে পারবো না, কিন্তু অনেককিছুই বুঝতে পারবো। ✔️
> আমরা সব বুঝি না- একটা বুঝলে অন্যটা বুঝি না, আমরা সব দেখি না- সামনে তাকালে পেছনে দেখতে পাই না। আমরা সব মনে রাখতে পারি না- একটা জানলে অন্যটা ভুলে যাই। কিন্তু আল্লাহ সবই বোঝেন, সবই দেখেন, সবই জানেন।
Comments
Post a Comment