Posts

Showing posts from September, 2025

নামাজে কোথায় হাত বাধতে হবে, সহীহ, হাসান, যয়িফ

 [] "সাহল ইবনু সা'দ (রা.) থেকে, "মানুষকে আদেশ করা হয়েছিলো যে, নামাজে মানুষ ডান হাত বাম হাতের ওপরে রাখবে।" — (সহীহ বুখারী ৭৪০, সহীহ মুসলিম ৪০১) > এই হাদিসটি সর্বসম্মতভাবে সহীহ। এখানে হাত কোথায় রাখা হবে বুক নাকি নাভির নিচে – কিছু বলা হয়নি, কেবল বলা হয়েছে ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখতে হবে। ____________________________________________________ ____________________________________________________ [] আলী ইবনে আবী তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "এটা সুন্নাহ যে, নামাজে মানুষ ডান হাত বাম হাতের কব্জি ধরে নাভির নিচে রাখবে।" — (সুনান আবু দাউদ ৭৫৬, সুনান আহমদ ৮৫৮, ইমাম আহমদ ও আবু দাউদ এটাকে হাসান বলেছেন; অনেক মুহাদ্দিস সহীহও বলেছেন) অবস্থান: নাভির নিচে। ওয়াইল ইবনে হুজর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে নামাজে দাঁড়িয়ে দেখেছি, তিনি তাঁর ডান হাত বাম হাতের ওপরে রেখেছেন বুকে। — (সুনান ইবনে খুযাইমাহ ৪৭৯, সহীহ; আলবানীও সহীহ বলেছেন) অবস্থান: বুকে। ____________________________________________________ কারা কারা সহীহ বলেছেন, কারা কারা হাসান বা সহীহ এর পর্যায়...

বিদআত।

 বিদআত: যে সকল সহীহ হাদিসে বিদআতের কথা বলা আছে, সেগুলোতে মূলত বলা হচ্ছে— 'দ্বীনে নতুন কিছু সংযোজিত করা যাবে না।' কিন্তু নতুন কিছু সংযোজিত বলতে কি কেবল নতুন বিশ্বাস, নাকি নতুন সাধারণ সুবিধাও, নাকি নতুন সাধারণ রীতি বা পদ্ধতিও, নাকি নতুন সাধারণ উৎসবও, নাকি অন্য কিছুও— স্পষ্টভাবে কিছু বলা নেই। ১. নতুন সুবিধা, যা ইবাদত। ২. নতুন সুবিধা, যা ইবাদত নয়। ৩. নতুন বিশ্বাস। ৪. নতুন রীতি বা পদ্ধতি, যা ইবাদত। ৫. নতুন রীতি বা পদ্ধতি, যা ইবাদত নয়। ৬. নতুন বানানো ধর্মীয় উৎসব। ৭. সাধারণ ধর্মীয় উৎসব বা অনুষ্ঠান।  উদাহরণ : ১ = যেখানে চার রাকাত পড়া আবশ্যিক, সেখানে ২ রাকাত পড়া— যা হলো সুবিধা, কিন্তু এটা ইবাদতের নতুন রীতি তাই এটা বিদআত। ২ = তাসবিহ ব্যবহার করা, ইবাদতের জন্য মাইক ব্যবহার করা— যা হলো সুবিধা, কিন্তু ব্যবহার করাটা ইবাদত নয়; ব্যবহার করে যা করা হচ্ছে, তা হলো ইবাদত। ৩ = সবাই মলে সম্মিলিতভাবে একত্রিত হয়ে ইসলামের কথা বললে হজের মতো সওয়াব পাওয়া যাবে — এটা নতুন বিশ্বাস, আর এ বিশ্বাসটা স্পষ্ট বিদআত। ৪ = যেখানে চার রাকাত পড়া আবশ্যিক, সেখানে ২ রাকাত পড়া— যা ইবাদতের নতুন রীতি, এবং এটা বিদআত। ৫ = "...

ইসলামে বিয়ের মৌলিক নীতি এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর সাথে আয়েশা (রা.)-এর বিয়ে প্রসঙ্গ : — আহসানুল ইরফান

[] ইসলামে বিয়ের মৌলিক নীতি এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর সাথে আয়েশা (রা.)-এর বিয়ে প্রসঙ্গ :   — আহসানুল ইরফান কুরআন ও সহীহ হাদীসে কোথাও বিয়ের নির্দিষ্ট সংখ্যাগত বয়স দেয়া হয়নি। বরং বলা হয়েছে— ১. বালেগ হওয়া (শারীরিকভাবে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া।) (সূরা আত-তালাক ৬৫:৪) ২. রুশদ (মানসিক পরিপক্বতা, দায়িত্ব বুঝতে পারা।) (সূরা আন-নিসা ৪:৬) ৩. সামর্থ্য থাকা (অর্থনৈতিক ও পারিবারিক দায়িত্ব নেয়ার ক্ষমতা।)  (সূরা আন-নূর ২৪:৩৩) → এগুলো পূর্ণ হলেই বিয়ে বৈধ ও উপযুক্ত হয়। [] চারটি দৃষ্টিকোণ নিয়ে প্রশ্ন : (১) শুধু রাজি হলেই কি বিয়ে বৈধ? বুঝুক না বুঝুক, রাজি হয়েছে তাতেই কি তার অধিকার আছে বিয়ে করার? না। কারণ, ছোটো শিশু হয়তো কিছু বোঝে না, কিন্তু রাজি বলে দিতে পারে। ইসলাম শুধু সম্মতি নয়, বরং বালেগ হওয়া ও সক্ষমতা–কে শর্ত করেছে। (২) বিয়ে সম্পর্কে কিছুটা বোঝা শিখলেই কি অধিকার পায়? (কেবল আল্লাহই সব বোঝেন) = "আংশিকভাবে" হ্যাঁ। কিন্তু এখানে কেবল "বোঝা" যথেষ্ট নয়। ইসলামে "পরীক্ষা করো" (নিসা ৪:৬) বলা হয়েছে। মানে বোঝা + দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা থাকতে হবে। (৩) বিয়ের বয়স হয়ে গেলে কেবল তখনই অধিকার আছে? = হ্...

মুহাম্মদ (সা.) যে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করেছিলেন তা ইতিহাসে লেখা নেই কেন?

একই সময়ে পৃথিবীর অর্ধেক অংশে দিন হয়, আর বাকি অর্ধেক অংশে রাত। যখন মুহাম্মদ (সা.) চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করেছিলেন তখন চাঁদের এক টুকরো হিরা পাহাড়ের এক পাশে আরেক টুকরো অন্য পাশে ছিলো। যদি এমনই হয় তাহলে পৃথিবীতে সে সময় যতো দেশে রাত ছিলো তাদের বড়ো সংখ্যক মানুষ এটা নিয়ে বলাবলি করার কথা, আর তা ইতিহাসে লেখা থাকার কথা। ইতিহাসে এ ঘটনা লেখা নেই কেন? অলৌকিক কাজগুলো কখনো এমনভাবে হয় না যে "একেবারে" পৃথিবীর সবাই দেখে ফেলবে আর সে সময়েই সবাই মুসলিম হয়ে যাবে। আল্লাহ বরং এমনভাবে করেন, যাতে অনেকে বিশ্বাস করে আবার অনেকে সন্দেহও করে। যদি সবাই আল্লাহকে দেখতে পেতো, তাহলে কাফির বা মুশরিক বলে কিছু থাকতো না। যদি সবাই জান্নাত–জাহান্নাম দেখতে পেতো, তাহলে কেউই সাধারণত জাহান্নামের ভয়ে অন্যায় করতো না, এবং সবাই জান্নাতের আশায় পাপ কাজ থেকে সাধারণত বিরত থাকতো। আল্লাহ ধার্মিকদের স্বপ্নে অনেক কিছু দেখান — স্বপ্নে কেন দেখান? যাতে সবার কাছে তা প্রকাশ না হয়। ফেরেশতাদেরকে দেখা যায় না, আল্লাহকে না দেখে বিশ্বাস করতে হয়। যদি সবকিছু স্পষ্ট হতো, তাহলে জীবন আল্লাহর পরীক্ষা হতো না। আল্লাহ বরং এমনভাবে করেন, যাতে অনেকে বিশ্বাস করে ...

ফেরাউনকে আল্লাহ অনেকগুলো অলৌকিক কাজ দেখিয়েছিলেন, তবুও সে আল্লাহ তায়ালার ওপর ঈমান কেন আনেনি?

ফেরাউনকে আল্লাহ অনেকগুলো অলৌকিক কাজ দেখিয়েছিলেন, তবুও সে আল্লাহ তায়ালার ওপর ঈমান কেন আনেনি? যেমন— লাঠিকে সাপ বানানোর মুজিজা, অলৌকিক হাতের জ্যোতি, অনেক আজাব যেমন: তুফান, ব্যাঙ চারদিকে ছড়িয়ে যাওয়া, নদীর জল রক্তে পরিণত হওয়া ইত্যাদি। এতো কিছুর পরেও সে আল্লাহ তায়ালার ওপর ঈমান কেন আনেনি? ১. ফেরাউন আজ থেকে প্রায় ৩২০০–৩০০০ বছর আগের কাফের ছিলো। মূসা (আ.) যখন ফেরাউনকে লাঠি সাপ বানিয়ে দেখিয়েছিলেন, তখন ফেরাউন ভেবেছিলো সেটা হয়তো যাদু। আবার ফেরাউন তার উপদেষ্টা হামানকে বলেছিলো একটি বড়ো প্রাসাদ বানাতে, যাতে সে ঐ প্রাসাদের ওপর উঠে দেখতে পারে, সত্যিই আল্লাহ আছেন কি না। এর অর্থ হলো— প্রথমত, সে আল্লাহ ও রিসালতের ব্যাপারে অজ্ঞ ছিলো। ২. ফেরাউন মনে করেছিলো, সে যদি মূসা (আ.)-এর ডাকে সাড়া দেয়, তাহলে তার ক্ষমতা ও মর্যাদা ধ্বংস হয়ে যাবে। ফেরাউন মিশরের রাজা ছিলো। সে আশঙ্কা করতো, বনি ইসরাইলের ঈমান যদি ছড়িয়ে পড়ে তবে তার শাসন ক্ষমতা টিকবে না। ৩. মূসা (আ.) আসলে ফেরাউনের প্রাসাদেই বড়ো হয়েছেন। ফেরাউনের অহংকারের কারণে এটা মানা কঠিন ছিলো যে, সেই মূসাই এখন আল্লাহর পক্ষ থেকে নবি হয়ে এসেছে। ৪. অহংকার ও জেদ: মানুষ যখন অহংকার...

আল্লাহর আধিপত্য

ধরুন, আমি মনে করি মানুষের বিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হওয়া উচিত। আর আল্লাহ মনে করেন, আল্লাহর বিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হওয়া উচিত। আমার ক্ষমতা বেশি নাকি আল্লাহর ক্ষমতা বেশি? আল্লাহর। তাহলে আল্লাহ যদি তার বিধান প্রয়োগ করেন, আমি কী মনে করি, না-করি তাতে যায় আসবে না। ধরুন, আমি শয়তানি অনুভূতি থেকে জেনে-বুঝে অনেক অন্যায় করেছি আর অন্যায়ে বিশ্বাসও করতাম। কিন্তু অন্যায় করার কিছু সময় পর আমি চিন্তা করছি, "আমার যা মোন চেয়েছে তাই করেছি, এতে অন্যায় বলে কিছু হয় না, আমি জানি ওমেকে কষ্ট পেয়েছে, কিন্তু এতে অন্যায় বলে কিছু হয় না। আর আমার জাহান্নামে যাওয়া উচিত নয়।" আর আল্লাহ মনে করেন আমার জাহান্নামে যাওয়া উচিত। এখন, আমি মনে করি আমার জাহান্নামে যাওয়া উচিত নয়, আর আল্লাহ মনে করেন আমার জাহান্নামে যাওয়া উচিত। কোনটা ঘটবে? আল্লাহর ক্ষমতা বেশি, তাই আল্লাহর ক্ষমতা ও ইচ্ছা অনুযায়ীই ঘটবে।

Subjective ও Objective :

 Subjective ও Objective : কেউ যখন বলে, "আমার কাছে আমি সঠিক, তোমার কাছে তুমি সঠিক," তার অর্থ হলো: আমার কাছে যা উচিত মনে হয় তা অনুযায়ী আমি সঠিক, আর তোমার কাছে যা উচিত মনে হয় তা অনুযায়ী তুমি সঠিক। আবার, কেউ যখন বলে, "তোমার ধারণা তোমার কাছে সঠিক, আমার ধারণা আমার কাছে সঠিক," তার অর্থ হলো: আমি যতটুকু ধারণা রাখি, ততোটুকু ধারণা অনুযায়ী আমার ধারণা সঠিক, আর তুমি যতোটুকু ধারণা রাখো, ততোটুকু ধারণা অনুযায়ী তোমার ধারণা সঠিক। কিন্তু পুরো ধারণা অনুযায়ী আমি কিংবা তুমি ভুল। ধরো, আমি একটা ছোটো কাঠ দেখে ভাবলাম এটা লোহা এবং ভাবলাম এটা নদীতে ফেলে দেয়া উচিত, কিন্তু পরে দেখলাম: না, এটা তো লোহা নয়। আমি যতোটুকু ধারণা রাখেছিলাম, ততোটুকু ধারণা অনুযায়ী আমার ধারণা সঠিক ছিলো, কিন্তু পুরো ধারণা আমার ছিলো না। আর আমার কাছে যা উচিত মনে হয়েছে, তা অনুযায়ী আমি সঠিক ছিলাম, কিন্তু পুরো ধারণা অনুযায়ী আমার কাঠটাকে নদীতে ফেলে দেয়ার প্রয়োজন নেই। আবার একই সময় একজন ঐ কাঠ দেখে ভেবেছিলো, এটা ক্লিপ, সে ভেবেছিলো এটা যত্ন করে রাখা উচিত। সে যতোটুকু ধারণা রেখেছিলো, ততোটুকু ধারণা অনুযায়ী তার ধারণা সঠিক ছ...