মুহাম্মদ (সা.) যে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করেছিলেন তা ইতিহাসে লেখা নেই কেন?

একই সময়ে পৃথিবীর অর্ধেক অংশে দিন হয়, আর বাকি অর্ধেক অংশে রাত। যখন মুহাম্মদ (সা.) চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করেছিলেন তখন চাঁদের এক টুকরো হিরা পাহাড়ের এক পাশে আরেক টুকরো অন্য পাশে ছিলো। যদি এমনই হয় তাহলে পৃথিবীতে সে সময় যতো দেশে রাত ছিলো তাদের বড়ো সংখ্যক মানুষ এটা নিয়ে বলাবলি করার কথা, আর তা ইতিহাসে লেখা থাকার কথা। ইতিহাসে এ ঘটনা লেখা নেই কেন?

অলৌকিক কাজগুলো কখনো এমনভাবে হয় না যে "একেবারে" পৃথিবীর সবাই দেখে ফেলবে আর সে সময়েই সবাই মুসলিম হয়ে যাবে। আল্লাহ বরং এমনভাবে করেন, যাতে অনেকে বিশ্বাস করে আবার অনেকে সন্দেহও করে। যদি সবাই আল্লাহকে দেখতে পেতো, তাহলে কাফির বা মুশরিক বলে কিছু থাকতো না। যদি সবাই জান্নাত–জাহান্নাম দেখতে পেতো, তাহলে কেউই সাধারণত জাহান্নামের ভয়ে অন্যায় করতো না, এবং সবাই জান্নাতের আশায় পাপ কাজ থেকে সাধারণত বিরত থাকতো।

আল্লাহ ধার্মিকদের স্বপ্নে অনেক কিছু দেখান — স্বপ্নে কেন দেখান? যাতে সবার কাছে তা প্রকাশ না হয়। ফেরেশতাদেরকে দেখা যায় না, আল্লাহকে না দেখে বিশ্বাস করতে হয়। যদি সবকিছু স্পষ্ট হতো, তাহলে জীবন আল্লাহর পরীক্ষা হতো না। আল্লাহ বরং এমনভাবে করেন, যাতে অনেকে বিশ্বাস করে আবার অনেকে সন্দেহেও পড়ে। কুরআনে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার ঘটনাটিকে চূড়ান্ত "মহাজাগতিক ঘটনা" নয়, বরং "নবির মু'জিজা" হিসেবে দেখা হয়েছে। অর্থাৎ, এটি এমন একটি দৃষ্টিগোচর অলৌকিকতা, যা নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট লোকদের জন্য ঘটেছিলো।

Comments

Popular posts from this blog

অলৌকিক ঘটনা কি কেবল নবি রসূলদের সাথেই ঘটে?

দার্শনিক নানা বিষয় একত্রে :

আল্লাহ এমনভাবে করেন যাতে অনেকে বিশ্বাস করে এবং অনেকে সন্দেও করে। বুঝতে হলে ধৈর্য ধরে জানতে হবে।