জ্বীন যদি চুরি করতেই পারে, তাহলে জ্বীন বশকারীরা ধনী হয়ে যায় না কেন?

 জ্বীন:

যারা জ্বীন বশ কখনো করেছে, এমন ভিন্ন ভিন্ন তিনজনের কাছে গিয়ে নিচের চিন্তাশীল প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করো, তারপর দেখো উত্তর মেলে কি না। জ্বীনের সাহায্য ভালো কাজের জন্য নেয়াও বৈধ নয়, তাই জ্বীনের সাহায্য নিয়ে করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু যারা কখনো জ্বীন বশ করেছিলো, তারা যে জ্ঞান ইতোমধ্যে রাখে, সে জ্ঞান থেকে উত্তর দিক:

(১) জ্বীন যদি জিনিস এনে দিতেই পারে, তাহলে কি ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা চুরি করে এনে দিতে পারবে? যদি পারেই, তাহলে যারা বশ করে তারা ধনী হয় না কেন? একজন মানুষ তার ফোনে কী পাসওয়ার্ড টাইপ করে, তা দেখে এসে বলতে পারবে? এগুলো যদি পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত হতো, তাহলে তো সমস্যা হবে। যদি উত্তর এটা হয় যে ফেরেশতারা মানুষের জিনিসের পাহারা দেয়, তাহলে কি শয়তান জ্বীন ফেরেশতাদের দেখতে পায়? ইবলিশের বংশধর থেকে কেউ কি ফেরেশতাকে দেখে ঈমান আনে? যখন কাউকে জ্বীন ধরে, তখন ফেরেশতারা আটকায় না, কিন্তু জিনিসের পাহারা দেয়? সোলাইমান (আ.)-এর জ্বীন জিনিস আনতে পারতো। বর্তমানের জ্বীন কি ১০ জন বিজ্ঞানীর সামনে এক টেবিল থেকে কোনো জিনিস অন্য টেবিলে এনে দিতে পারবে? যারা জ্বীন বশ করে তারা সে কাজ গোপনে করে।

(২) জ্বীনদের আদি পিতা কে, তা আমরা জানি না। ইবলিশ কি না, তা-ও জানি না। ইবলিশ একটি জ্বীন। অন্যান্য জ্বীন, যারা হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, তারা কি ইবলিশকে দেখতে পায়? যদি পায়ই, তাহলে কেন বোঝে না যে কুরআন সত্য? আবার ইবলিশকে যদি খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু জ্বীনরা দেখতেই পায়, তাহলে তারা ইবলিশ সম্পর্কে কী ভাবে, যে এতো বছর ধরে ইবলিশ কীভাবে বেঁচে আছে?

(৩) কুরআনে উল্লেখ আছে যে, একসময় কিছু জ্বীন আসমানের সংবাদ শোনার চেষ্টা করতো। কিন্তু নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের পর তাদের ওপর কঠোর পাহারা বসানো হয় এবং উল্কাপিণ্ড নিক্ষেপ করে তাদের তাড়িয়ে দেয়া হয় (সূরা আল-জিন ৭২:৮–৯; সূরা আস-সাফফাত ৩৭:৬–১০)। এখন এরা কি কেবল ইবলিশের বংশধর, নাকি তার বংশধর ছাড়া যে জ্বীনরা ছিলো, তাদের বংশধরও—অর্থাৎ হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ জ্বীনরাও? যদি হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ জ্বীনরাও হয়, তাহলে তারা ফেরেশতাদের দেখে ঈমান আনে না কেন?

(৪) আল্লাহর নাম নিয়ে জবাই করা পশুর হাড় জ্বীনদের কাছে এমন অবস্থায় পৌঁছে যে তাতে তাদের জন্য মাংস থাকে, যা তাদের রিযিক। অমুসলিম জ্বীনরা কি মুসলিম জ্বীনদের সাথে ঘটা এই ঘটনা দেখতে পায়?

(৫) জ্বীন পৃথিবীতে থাকে। ইবলিশ তো মানুষের রূপ ধারণ করে আসতে পারে। তাহলে এখন কেন আসে না? বা তার বংশধরের কেউ, বা অন্য কোনো জ্বীন? আমরা প্রায়ই এমন দেখি না কেন যে সে এলো? তাদের তো আসার জন্য ফেরেশতাদের মতো আল্লাহর থেকে অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন নেই।

(৬) ইবলিশের মনের সাইকোলজিটা কী? তার ভেতরে এতো বেশি হিংসা ও অহংকার কীভাবে, যে সে বছরের পর বছর ধরে মানুষকে কুমন্ত্রণা দিয়েই যাচ্ছে? এতো বেশি অহংকার ও হিংসা কীভাবে? Narcissistic Personality Disorder-এর মতো? সিরিয়াল কিলাররা একের পর এক খুন করে, তবুও তাদের কিছুই মনে হয় না।

(৭) মুসলিম জ্বীন কি রোজা রাখে? যদি কোনো জ্বীন রাতের শেষ ভাগে সেহরি করে, আর দ্রুত ১ মিনিটে দূরে কোনো দেশে যায় এবং দেখে ওখানে সূর্যাস্ত হচ্ছে, তাহলে কি ১ মিনিটেই রোজা ভাঙে?

(৮) ইবলিশের প্রাসাদ কোথায়? তা কি অন্য কোনো জ্বীন জানে?

(৯) তুলা রাশির সঙ্গে জ্বীনদের কী সম্পর্ক?

[] ইবলিশের পর আর কোনো জ্বীন ইবাদত করে ফেরেশতাদের সমকক্ষ সম্মান লাভ করেনি এবং পরবর্তীতে অবাধ্য হয়ে ইবলিশের মতো চূড়ান্ত অভিশপ্ত পরিণতিও বরণ করেনি। "ধারণা করা হয়", ইবলিশ যখন ইবাদত করছিলো, তখন জ্বীনজাতি পৃথিবীতে রক্তপাত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার কারণে প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো। ইবলিশ বেঁচে গিয়ে আল্লাহর চরম ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিলো। তখন জ্বীনদের জন্য কোনো নবী-রাসূল বা আলাদা শরিয়ত ছিলো না। পরবর্তী সময়ে ইবলিশের পতনের সময়ের দিক থেকে (পতনের সময় থেকে নয়, পতনের সময়ের দিক থেকে) আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে সৃষ্টি করেন এবং জ্বীন ও মানুষের জন্য নতুন পরীক্ষার নিয়ম চালু করেন। এখন জ্বীনদের পরীক্ষা হয় পৃথিবীতে থেকে আল্লাহর প্রেরিত নবী-রাসূলদের নির্দেশ মেনে চলার মাধ্যমে; আকাশে উঠে ফেরেশতাদের সঙ্গে ইবাদত করার মাধ্যমে নয়। ইবলিশের অপরাধের পর আল্লাহ তাআলা জ্বীনজাতির জন্য আকাশের উচ্চ স্তরে অবাধ যাতায়াত এবং ফেরেশতাদের মজলিসে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি চিরতরে বন্ধ করে দেন। তাই ইবলিশের মতো এতো বড়ো শয়তান অন্য কোনো জ্বীনের হওয়ার সুযোগ আর নেই, অনেক ইবাদত করে তারপর অবাধ্য হওয়ার দ্বারা।

[] যদি কালো জাদু সত্য না হয়, তাহলে যারা করে, তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে সেগুলোর পেছনে সময় কেন ব্যয় করে? পূজা করাটা আলাদা; পূজা তো মানুষ ভগবানকে খুশি করার জন্য করে। 

[] ইবলিশ এতো বছর ধরে বেঁচে আছে, তাহলে তো তার প্রচুর সন্তান থাকার কথা।

[] আমি একজন বিশ্বস্ত মানুষের মুখেই শুনেছি যে তিনি মানুষের রূপ ধারণ করা জ্বীন দেখেছেন। তারপর তিনি কয়েক দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।

[] আমি বিশ্বস্ত মানুষের মুখে শুনেছি যে জ্বীনের সঙ্গে তুলা রাশির সম্পর্ক আছে।

[] মানুষ যদি সব সময় জ্বীনদের দেখতে পেতো, তাহলে মানুষের প্রাইভেসি বলে কিছু থাকতো না। যখন-তখন দেখা যেতো, জ্বীন বাসায় ঢুকে পড়ে এবং মানুষ হয়তো তাদের নানা খারাপ কাজে ব্যবহারও করতো। মানুষের ক্ষেত্রে, একজন সাধারণ মানুষ কিন্তু চাইলেই ক্যান্টনমেন্টে ঢুকতে পারে না, চাইলেই পিস্টল হাতে নিয়ে ঘুরতে পারে না। মানুষের নানা বাধা ও সীমাবদ্ধতা আছে, যা স্বাভাবিক, জ্বীনদেরও তেমন নানা বাধা ও সীমাবদ্ধতা থাকবে।

Comments

Popular posts from this blog

ফেরেশতা কি বলেছিলেন যে, ১ ঘণ্টা পরে 'ইনশাআল্লাহ' বলবেন, যার কারণে সুলাইমান (আ.) 'ইনশাআল্লাহ' বলতে ভুলে গেছেন?

যতো বেশি জানা যায় ততো ভালো, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে বেশি জানার প্রয়োজন নেই এটাও জানা প্রয়োজন।

ইসলাম যেহেতু অতীতেও "সুস্পষ্টভাবে" প্রমাণিত ছিলো না, তাহলে ভবিষ্যতেও "সুস্পষ্টভাবে" প্রমাণিত হবে না।