অনর্থক, অপচয়, অবজ্ঞা
ইসলামে এমন নানা কাজ আছে, যেগুলো জায়েজ, কিন্তু সেগুলোর ইহকালীন বা পরকালীন কোনো উপকার নেই। যেমন- গাছপালার শোপিস রাখা, পুতুল দিয়ে খেলা, সামর্থ্যবান কেউ দামী বাড়ি করা ইত্যাদি। এগুলো করে সুখ পাওয়া যায়, সুখই উপকার।
অপচয়: ধরুন, আপনি ১০০ টাকা আয় করেন। আপনার গুরুত্বপূর্ণ কোনো জিনিস কেনার আছে; আপনি সেটা না কিনে ৭০ টাকা ব্যয় করে বল কিনলেন— তাহলে তা অপচয়। কিন্তু যদি এমন হয় যে, আপনার ১০০ টাকা আছে, তার ভেতর থেকে আপনি ১০ টাকা ব্যয় করে আতশবাজি করলেন— তাহলে তা অপচয় নয়। টেলিভিশনে আমরা বিনোদনের নানা কিছু দেখি— এতে করে বিদ্যুৎ ব্যয় হয়। তাতেই কি অপচয়? না, যেহেতু কারও সামর্থ্য আছে ব্যয় করার, তাই এটা অপচয় নয়, সুখের জন্য করলেও। কিন্তু যদি প্রয়োজনীয় কিছু বাদ দিয়ে তা করা হয়, তাহলে তা অপচয় হবে। ধরুন, কারও অনেক ভাত আছে; সে যদি কিছু ভাত নষ্ট করে, তাহলে কি তা অপচয়? কিছু ভাত নষ্ট করা অপচয় নয়, তবে তা অবজ্ঞা; কারণ ভাত খাওয়ার জিনিস, খাওয়ার জিনিস দিয়ে খেলা হচ্ছে, এটা অবজ্ঞা, কিন্তু ১০০ টাকার ভেতর ১০ টাকা নিয়ে আতশবাজি করলে তা খেলার জিনিস দিয়ে খেলা হচ্ছে, এটা অপচয় নয়। কিন্তু কারও কাছে প্রচুর ভাত আছে, তার ভেতর থেকে কিছু ভাত নষ্ট হলো— তা অপচয় নয়।
কারও যদি সামর্থ্য থাকে দামী বাড়ি করার, তাহলে দামী বাড়ি করা জায়েজ। কিন্তু মসজিদ জাঁকজমক করা নিষেধ— এজন্য নয় যে, পৃথিবীতে অনেক অভাবী মানুষ আছে; বরং এজন্য যে, যা ইবাদতের জায়গা, তা জাঁকজমকপূর্ণ করা নিষেধ।
"যে খেলার শারীরিক কোনো উপকার নেই, ইসলামে সে খেলা নাজায়েজ" এই কথাটি ইসলামে ভিত্তিহীন। জুয়া, আসক্তি ও হারাম কিছু নেই— যেমন বাদ্য (দফ হালাল), অশ্লীলতা ছাড়া — এমন সব খেলাই ইসলামে জায়েজ।
ইসলামে জন্মদিন পালন করা নাজায়েজ এর কোনো শক্ত ভিত্তি নেই। অমুসলিমদের অনুকরণের যে হাদিস আছে, তা অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব, ধর্মীয় বিষয় ও বিপদগামী আচরণকে নির্দেশ করে; জন্মদিন পালন ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং পারিবারিক উৎসব। জন্মদিনের সঙ্গে একসময় কুফরি বিশ্বাসের সম্পর্ক ছিলো— এ কথা বললে, বর্তমানে এমন নানা কাজই আছে যেগুলোর সঙ্গে অতীতে কুফরি বিশ্বাসের সম্পর্ক ছিলো। যেমন— আংটি, চাঁদ-তারার প্রতীক। আর জন্মদিন এমন নয় যে, তা কোনো মন্দির বা গির্জায় গিয়ে করা হয়, বা মূর্তি বানিয়ে করা হয়। "শুভ জন্মদিন" এজন্য বলা হয় না যে, দিনটির সঙ্গে আধ্যাত্মিক শুভ কিছু আছে; বরং বলা হয়— দিনটি তোমার শুভ হোক, এটি বোঝাতে। জন্মদিন এজন্য পালন করা হয় না যে, একজনের হায়াত কমে গেছে; বরং এজন্য পালন করা হয় যে, এই দিনে সে জন্ম নিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে দেখলেন, দুটি নির্দিষ্ট দিনে মানুষ জাহেলিয়াত যুগে উৎসব পালন করতো। এই হাদিস দ্বারা এটা বিবেচিত হয় না যে, ভবিষ্যতে বার্ষিক নির্দিষ্ট কোনো পারিবারিক উৎসবও বাতিল; বরং এই হাদিস দ্বারা কেবল এটা বোঝা যায় যে, জাহেলিয়াত যুগের ঐ দুই উৎসবে কুফরি, শিরক ইত্যাদি ছিলো— এজন্যই সেই দুটি উৎসব বাতিল করে দুটি ঈদ দেয়া হয়েছে। ধর্মীয় নতুন বানানো (সামাজিকভাবে নয়) কোনো উৎসব বিদআত হবে "ধর্মে নতুন কিছু সংযোজন" সংক্রান্ত হাদিস থেকে — জাহেলিয়াতের ঐ হাদিস থেকে নয়। জন্মদিন পালন করা একটি পারিবারিক বিনোদন। যদি বাদ্য ছাড়া, অশ্লীলতা ছাড়া পালন করা হয়, তাহলে তা জায়েজ।
Comments
Post a Comment