হানাফি, শাফিয়ি, হাম্বলি, আহলে হাদিস — এসব নামে নিজেকে ডাকা যেতে পারে, কিন্তু সব সময়ই এসব পরিচয় বারবার দেয়ার প্রয়োজন নেই, আর অন্য মাযহাব বা মানহাজকে ছোটো করে দেখার প্রয়োজন নেই। এমনিতে আলোচনা-বিতর্ক হতে পারে, কিন্তু তর্ক করার প্রয়োজন নেই।

হানাফি, শাফিয়ি, হাম্বলি, আহলে হাদিস — এসব নামে নিজেকে ডাকা যেতে পারে, কিন্তু সব সময়ই এসব পরিচয় বারবার দেয়ার প্রয়োজন নেই, আর অন্য মাযহাব বা মানহাজকে ছোটো করে দেখার প্রয়োজন নেই। এমনিতে আলোচনা-বিতর্ক হতে পারে, কিন্তু তর্ক করার প্রয়োজন নেই। 

বর্তমানে মানুষ "সাধারণত" দেখে না যে কে হানাফি আলেম, কে হাম্বলি আলেম, কে আহলে হাদিস আলেম। মানুষ সাধারণত বড়ো প্রভাবশালী নানা আলেমদের কথা শোনে আর দেখে তিনি সঠিক বলছেন কি না; মানুষ ইউটিউবে একাধিক বড়ো আলেমের কথা শোনে আর জানার চেষ্টা করে কে সঠিক বলছে।

যদি এমন হয়, একই বিষয়ে এই সময়ের তিনজন বড়ো আহলুস সুন্নাহর আলেমের বই আপনি পড়লেন আর দেখলেন তিনজনের মত ভিন্ন, আপনি যদি গবেষক হন, তাহলে গবেষণা করে দেখলেন যে তিনটির মধ্যে কোনটি সঠিক, আর যদি সময় না থাকে, তাহলে আপাতত দৃষ্টিতে যেটা সঠিক মনে হয়, সেটাই মানলেন। কোনো বাড়াবাড়ি করার প্রয়োজন নেই। আহলে হাদিস, হানাফি, মালিকি —তাদের নিজেদের আলেমদের মধ্যেও মতোপার্থক্য আছে, আবার অনেকে নিজেও নিজের মত পরে পরিবর্তন করেছেন।

খারিজিদের বড়ো বৈশিষ্ট্য ছিলো, তারা কিছু সত্য কথা বা নীতিকে এমনভাবে প্রয়োগ করতো যে তা চরমপন্থায় পরিণত হতো, অথচ নিজেদেরকেই সঠিক মনে করতো। তাদের বিখ্যাত স্লোগান ছিলো, "لَا حُكْمَ إِلَّا لِلَّهِ : হুকুম তো কেবল আল্লাহরই।" এই কথাটি নিজে সত্য; কিন্তু তারা এটিকে এমনভাবে ব্যবহার করেছিলো যে মধ্যস্থতা অস্বীকার করতে শুরু করে।

আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, "আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে; তারা সবাই জাহান্নামে, একটি দল ছাড়া।" সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! সেই দল কোনটি?" তিনি (সা.) বললেন, "যার ওপর আমি এবং আমার সাহাবিরা আছি।" — (তিরমিজি, হাদিস নম্বর ২৬৪১, হাদিসের মান: হাসান গরীব)

এই হাদিস থেকে কিছু আহলে হাদিসের অনুসারী বলে, আহলে হাদিস হবে নাজাতপ্রাপ্ত দল। বাকি সব মাযহাব ও মানহাজ জাহান্নামি। কিন্তু এমন সরাসরি দাবি করা যায় না, বরং যারা রাসূল (সা.) ও সাহাবিদের অনুসরণ করবে, তারাই নাজাতপ্রাপ্ত।

Comments

Popular posts from this blog

ভালো থাকার উপায়:

ফেরেশতা কি বলেছিলেন যে, ১ ঘণ্টা পরে 'ইনশাআল্লাহ' বলবেন, যার কারণে সুলাইমান (আ.) 'ইনশাআল্লাহ' বলতে ভুলে গেছেন?

তার মানেই এ নয় যে