ইসলামকে যারা খারাপভাবে দেখে, তাদের খারাপভাবে দেখার পেছনে মূল যে কারণগুলো আসলে থাকে:

ইসলামকে যারা খারাপভাবে দেখে, তাদের খারাপভাবে দেখার পেছনে মূল যে কারণগুলো আসলে থাকে:

আল্লাহ এটা করেননি যে, তুমি যদি জান্নাতে যাও, তাহলে তোমার সাথে যে নারী থাকবে, সে একাই ৭২ রকমের রূপ ধারণ করতে পারবে, তোমার ভিন্ন ভিন্ন নারীর কাছে যেতে হবে না। বরং আল্লাহ বলেছেন, কেউ জান্নাতে গেলে ৭২টা ভিন্ন ভিন্ন হুর পাবে। ফলে মানুষ বিষয়টা খারাপভাবে দেখছে। অথবা, আল্লাহ এটাও বলেননি যে, তোমার একজনকেই নতুন করে বারবার ভালো লাগতে থাকবে।

আল্লাহ এটা ঘটাননি যে, অন্যান্য মুসলিমরা যেহেতু সর্বোচ্চ ৪টা বিয়ে করতে পারবে, তাই রাসূল (সা.)-এর ক্ষেত্রেও এর বেশি ঘটবে এমন ঘটতে না দিই, যাতে করে ভবিষ্যতে মানুষ এটাকে খারাপভাবে না দেখে। বরং আল্লাহ রাসূল (সা.)-এর ক্ষেত্রে ৪টার বেশি বিয়ে হতে ঘটতে দিয়েছেন।

আল্লাহ এটা করেননি যে, আমি না হয় কুরআনে সংজ্ঞা, উদাহরণ, ব্যাখ্যা, শব্দের অর্থ — এসবসহ দিয়ে দিই, তাহলে মানুষের বুঝতে সুবিধা হবে। বরং কুরআনে এক জায়গায় বলা হচ্ছে, আল্লাহ পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু, আবার আরেক জায়গায় বলা হচ্ছে, আল্লাহ অনেকজনকে অনন্তকালের জন্য জাহান্নামে রাখবেন। হাদিস ব্যাপকভাবে সংগ্রহ করা শুরু হয়েছে রাসূল (সা.)-এর মৃত্যুরও অনেক পরে, সাহাবিদের ভয় ছিলো কুরআনের সাথে হাদিস মিশ্রিত হয়ে যাবে, আল্লাহ এ সমস্যার জন্য তখন কোনো ব্যবস্থা করেননি।

আল্লাহ এটা করেননি যে, যে যে জান্নাতে যেতে চাও, সে সে পৃথিবীতে গিয়ে পরীক্ষা দাও, আর যে যে যেতে চাও না, তাকে মুছে ফেলা হবে; তারা মাটি হয়ে যাবে বা শূন্য হয়ে যাবে। অথবা কেউ বললো, আল্লাহ, আমি জান্নাত, জাহান্নাম, পৃথিবী — কিছুই চাই না, আমাকে মুছে ফেলো। আল্লাহ বললেন, আচ্ছা, ঠিক আছে, তোমাকে মুছে ফেলি, আর তোমার ওপর কেউ নির্ভরশীল থাকলে তার জন্য ভালো ব্যবস্থা করে দিই অথবা তোমার জায়গায় মানুষরূপী একজন ফেরেশতা পাঠিয়ে দিই। অথবা সবাইকে শুরু থেকেই ভালো বানিয়ে জান্নাতে রেখে দিলেন, আল্লাহও সন্তুষ্ট এবং বাকি সবাইও সন্তুষ্ট। বরং পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, যেখানে খুন হয়, ধর্ষণ হয়, ছোটো বাচ্চাদের ক্যান্সার হয়, বেঁচে থাকতে বাধ্য হয়ে প্রাণী ও উদ্ভিদ হত্যা করে খাবার বানাতে হয়, নিজের প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে আরেকজনকে পৃথিবীর মতো কষ্টের জায়গায় আনতে হয়, অর্থাৎ সন্তান জন্ম দেয়া — এমন কষ্টের নিয়ম।

Comments

Popular posts from this blog

ভালো থাকার উপায়:

ফেরেশতা কি বলেছিলেন যে, ১ ঘণ্টা পরে 'ইনশাআল্লাহ' বলবেন, যার কারণে সুলাইমান (আ.) 'ইনশাআল্লাহ' বলতে ভুলে গেছেন?

যতো বেশি জানা যায় ততো ভালো, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে বেশি জানার প্রয়োজন নেই এটাও জানা প্রয়োজন।