Posts

Showing posts from July, 2025

ভালো থাকার উপায়:

ভালো থাকার উপায়: ১. জীবনে যতো কষ্টই আসুক, তা গ্রহণ করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ভয় করা যাবে না। কে কী বলল, তাতে বেশি গুরুত্ব দেয়া যাবে না। চেষ্টা করতে হবে, বারবার চেষ্টা করতে হবে। আর আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস ও ভরসা রাখতে হবে। "যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট।" (সুরা তালাক, ৬৫:৩) ২. আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করতে হবে: "নিশ্চয়ই আল্লাহর স্মরণে অন্তর প্রশান্ত হয়।" (সুরা রা'দ, ১৩:২৮) ৩. অতিরিক্ত সুখ খোঁজা যাবে না। অতিরিক্ত সুখ খুঁজলে— এটা আর ভালো লাগে না, সেটা আর ভালো লাগে না। পরিশ্রমের ভেতর থাকতে হবে, আর অবসর সময়ে একটু আনন্দ করা প্রয়োজন। ৪. মধ্যমপন্থার জীবনযাপন করতে হবে। অতিরিক্ত হেলাফেলা করা ঠিক নয়, আবার কোনো কিছু অতিরিক্ত সিরিয়াসলি নেয়াও ঠিক নয়— এ দুটির মাঝামাঝি একটি ভারসাম্যপূর্ণ পথ অবলম্বন করতে হবে। ৫. ফলাফল নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। কোনো কিছুই সব সময় ভালো লাগবে না। যতোটুকু অর্জন করতে পেরেছি, তার জন্যই "আলহামদুলিল্লাহ্‌"।

সুন্দর গঠন বনাম সুন্দর লাগা

A: একটি জিনিস আমার কাছে সুন্দর লাগছে বলে সেটা সুন্দর, নাকি আমার কাছে না লাগলেও সেটা সুন্দর? কেউ না থাকলে তো সুন্দরকে কেউ সুন্দর বলতো না। B: এটা নির্ভর করে সুন্দর বলতে আপনি কোনটা বোঝাচ্ছেন। সুন্দর লাগাটা মস্তিষ্কে, আর সুন্দর গঠন হলো জিনিসটিতে। Sense হলো something, ঠিক তেমনি বস্তুও something — যার গঠন মিলমিল। Sense আসাটা বস্তুর গঠনের ওপরও নির্ভরশীল। 

পৃথিবীতে বিভিন্ন রঙ আছে, ভালো মানুষ আছে, খারাপ মানুষ আছে, সুখ আছে, কষ্ট আছে, বিভিন্ন ধর্ম আছে...

A: পৃথিবীতে বিভিন্ন রঙ আছে, রাত আছে, দিন আছে, ভালো মানুষ আছে, খারাপ মানুষ আছে, সুখ আছে, কষ্ট আছে, বিভিন্ন ধর্ম আছে। এসবকিছুই প্রয়োজন। যেকোনো একটি ধর্ম সঠিক হতে পারে না। B: ভুল ধর্মও প্রয়োজন, সঠিক ধর্মও প্রয়োজন। জান্নাতও প্রয়োজন, অনেক মানুষের জন্য জাহান্নামও প্রয়োজন। হ্যাঁ, ভুল ধর্মগুলোও প্রয়োজন কিন্তু সেগুলো ভুল করার জন্য, আর সঠিক ধর্ম প্রয়োজন সঠিক কাজ করতে। খারাপ মানুষ প্রয়োজন, তবে তারা পরে শাস্তি পাবে, ভালো মানুষও প্রয়োজন তারা পরে জান্নাতে থাকবে। A: যদি ভুল ধর্মও প্রয়োজন হয়, তাহলে তা পালন করার দ্বারা মানুষ জাহান্নামে কেন যাবে? B: ধরো, তুমি জিহান নামে একজনকে খুন করলে, জিহান তার জীবনে যতো পাপ করেছে সেই সকল পাপের ভার তখন তোমার ওপর আসলো। পরকালে জিহান বললো, "আমি খুন হয়েছিলাম বলে জান্নাতে যেতে পারবো", তখন কি তুমি বলবে, "আমি খুন করেছিলাম বলেই সে জান্নাতে যেতে পারছে তাহলে আমাকেও জান্নাত দেয়া হোক"? তুমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর উদ্দেশ্যে খুন করোনি, তুমি তাকে খুন করেছিলে তার ওপর অন্যায় করতে। (ইসলাম অনুযায়ী কাউকে হত্যা করলে, যাকে হত্যা করা হবে তার "সব" পাপ যে হত...

ফিলোসফি কি হারাম?

ফিলোসফি কি হারাম? ধরুন, বর্তমান সময়ে অনেক বড় সংখ্যক মানুষ ইসলামের বিরুদ্ধে দার্শনিক (ফিলোসফিক্যাল) প্রশ্ন উত্থাপন করা শুরু করলো, তখন আমি মনে করি, আল্লাহ এমন কিছু মেধাবী মানুষ পাঠাবেন যারা সেই দার্শনিক প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবেন। আবার ধরুন, বর্তমানে এক বড়ো সংখ্যক মানুষ ইসলামের বিরুদ্ধে বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন উত্থাপন করা শুরু করলো, তখন আল্লাহ অনেক মেধাবী মানুষ পাঠাবেন যারা সেই বৈজ্ঞানিক প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবেন। এভাবে ফিলোসফি, বিজ্ঞান, টেকনোলজি—সবকিছুই প্রয়োজন। আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে আমাদের উপমহাদেশের অনেক মুসলমান ভাবতেন, ইংরেজি ভাষা শিখলে তারা হয়তো খ্রিস্টান হয়ে যাবেন। তাদের সেই চিন্তাটা সম্পূর্ণ ভুলও বলা যায় না, কারণ সে সময় ইংরেজি ভাষা শিখলে সত্যিই অনেক মানুষ খ্রিস্টান হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিলো। একজন ছোট বাচ্চার জন্য ফিলোসফি সমস্যাজনক হতে পারে। সবার জন্য সব কিছু নয়; যেমন সবাই ফিজিক্স পারে না, সবাই কেমিস্ট্রি পারে না, সবাই বায়োলজি পারে না। ফিলোসফি একটি বিষয়, এটা অনেকের জন্য ক্ষতিকর হতেও পারে, আবার অনেকের জন্য উপকারীও হতে পারে।

ইসলাম যেহেতু অতীতেও "সুস্পষ্টভাবে" প্রমাণিত ছিলো না, তাহলে ভবিষ্যতেও "সুস্পষ্টভাবে" প্রমাণিত হবে না।

ইসলাম যেহেতু অতীতেও "সুস্পষ্টভাবে" প্রমাণিত ছিলো না, তাহলে ভবিষ্যতেও "সুস্পষ্টভাবে" প্রমাণিত হবে না। অতীতে অনেকে কম জেনে ঈমান এনেছিলো, ভবিষ্যতেও অনেকে কম জেনেই ঈমান আনবে। অতীত, ভবিষ্যতের সকল মানুষের জন্যই পরীক্ষা সমান।

ইসলাম বনাম অজ্ঞেয়বাদ

ইসলাম বনাম অজ্ঞেয়বাদ: — আহসানুল ইরফান  <?> পৃথিবীতে কোটি কোটি বই আছে, তার ভেতর কুরআন কেবল ১টি; সবাই তো কুরআনও পড়েনি। পৃথিবীতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ আছে, কে জানে কার ধর্ম সঠিক, সবাই তো আর বিচার-বিশ্লেষণ করতে পারবে না, সবাই তো আর দার্শনিকও নয়, সবাই বিজ্ঞানীও নয়, সবাই আলেমও নয়, আলেমদের মধ্যেও মতোভেদ আছে, বিজ্ঞানেও মতোভেদ আছে। তাহলে কি অজ্ঞেয়বাদই সঠিক নয়? আমরা কি ইসলামে বিশ্বাস না করে বরং বলতে পারি না "আমি জানি না সত্য কোনটি?"?  = যারা বুঝতে পারছে না তাদের জন্য "আমি জানি না" এটা সৎ উত্তর হতে পারে, কিন্তু একজন মুসলিমের জন্য এটা বলা সৎ উত্তর হবে না। ইসলামে যৌক্তিকতা, বিশ্বাস, ফলাফল, নির্ভরযোগ্য সূত্র এসবগুলো গুরুত্ব পায়। সবগুলোই গুরুত্ব পায় তার অর্থ এ নয় যে একজনকে সবই জানতে হবে। কিছু বিষয় যুক্তি দিয়ে বুঝতে হবে, কিছু বিষয় বিশ্বাসের ওপর ছেড়ে দিতে হবে, কিছু বিষয় ফলাফল অনুযায়ী বুঝতে হবে, আবার কিছু জিনিস নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী বুঝতে হবে। তার মানে এও নয় যে প্রত্যেকেই সবদিক থেকে বিবেচনা করবে। আর ইসলামে "বিশ্বাস" অন্যান্য সবকিছু থেকে বেশি গুরুত্ব পায়: [] পৃথিব...

একজন অজ্ঞ, মূর্খ নাস্তিকের পোস্টেও 'Haha' রিঅ্যাক্ট দেয়া আসলে অসৎ অভ্যাস

একজন অজ্ঞ, মূর্খ নাস্তিকের পোস্টেও 'Haha' রিঅ্যাক্ট দেয়া আসলে অসৎ অভ্যাস। অনেক ক্ষেত্রে ‘Angry’ রিঅ্যাক্ট দেয়া ঠিক আছে, কিন্তু ‘Haha’ রিঅ্যাক্ট দেয়া অনুচিত। এটা বোঝা common sense-এর বিষয়ও, তবুও কিছু বিষয় তুলে ধরছি: [] রাসূলুল্লাহ (সা.) আমর ইবন হিশামকে 'আবু জেহল' অর্থাৎ 'মূর্খের পিতা' উপাধি দিয়েছিলেন, কারণ তিনি ইসলামের প্রতি চরম শত্রুতা ও অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছিলেন। এখানে উপহাসের উদ্দেশ্য ছিলো না, বরং তার অবস্থান ও আচরণের বাস্তব মূল্যায়ন করা হয়েছিলো। এটা উপহাস ছিলো না, এটা ছিলো ক্রধ প্রকাশ। [] উহুদ যুদ্ধে কাফির নেতা আবু সুফিয়ান অহংকার করে কথা বলছিলো। সাহাবারা বিদ্রূপে জবাব দিতে চাইলেও নবীজী (সা.) বললেন, "তোমরা এমন কিছু বলো যা তাদের কথার জবাব হয়, কিন্তু মিথ্যা বা ব্যঙ্গ নয়।" [] "তুমি জ্ঞানের সাথে পথের দিকে আহ্বান করো, উপদেশ দাও এবং তাদের সাথে উত্তম পন্থায় বিতর্ক করো।" — (সূরা নাহল, ১৬:১২৫) [>] "তারা (কাফিররা) উপহাস করতো, তাই আল্লাহও তাদেরকে উপহাস করেন।”— (সূরা তাওবা, ৯:৭৯) এখানে 'আল্লাহ উপহাস করেন' কথাটি মানুষের মতো ব্যঙ্গ কর...

2+2 is really not equal to 4

2+2 is really not equal to 4:  — Ahsanul Irfan দুটা জিনিস কখনো এক হতে পারে না। যেটা যেটা সেটা কেবল সেটাই; স্থান, কাল, পদার্থ সব মিলে সেটা কেবল সেটাই। যেটা চেয়ার কেবল সেটাই চেয়ার, যেটা টেবিল কেবল সেটাই টেবিল। চেয়ার একই সাথে টেবিল হতে পারে না, থাকা একই সাথে না-থাকা হতে পারে না। কালো একই সাথে সাদা হতে পারে না। যেটা 2 সেটাই 2, যেটাই "+" কেবল সেটাই "+", পরের 2 হলো পরের 2, "=" হলো "=", আর 4 হলো 4. আগের 2, আর পরের 2 এক 2 নয়। পরের 4 আর আগের 4 এক 4 নয়। 2 মস্তিষ্কে একটি হিসেব, একটি হিসেব কি আরেকটি হিসেব হতে পারে? 2 মস্তিষ্কে একটি ধারণা, একটি ধারণা কি অন্য আরেকটি ধারণা হতে পারে?... 2+2 = প্রায় 4, কিন্তু 2+2≠4.

ইসলাম প্রচারক হতে হলে পাঞ্জাবি পরতে হবে, নাকি পাঞ্জাবি না পরলেও ইসলাম প্রচারক হওয়া যেতে পারে?

আমরা যদি চিন্তা করি, যদি আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই উপমহাদেশে জন্মাতেন, বিশেষ করে বাংলাদেশে, তাহলে তিনি কি আমাদের সংস্কৃতির প্রচলিত পোশাক—যেমন শার্ট বা লুঙ্গি পরতেন না? হতে পারে, পরতেন। মূল বিষয় হলো, ইসলাম প্রচারে একজনের পোশাক ঠিক কতোটুকু গুরুত্ব রাখে? বিশেষ কোনো পোশাক, যেমন পাঞ্জাবি, তা কি দাওয়াত বা ইলম প্রচারের জন্য অপরিহার্য? নাকি একজন মানুষ তাঁর চরিত্র, জ্ঞান ও আচরণের মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরতে পারেন, পোশাকের ধরণ যাই হোক না কেন? অবশ্যই, পোশাক ইসলামে গুরুত্ববহ, বিশেষ করে টুপি বা মাথা ঢাকার বিষয়ে অনেক আলেম গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তবে, একই গুরুত্ব কি পাঞ্জাবির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য? নাকি এটি একটি সংস্কৃতি বা অভ্যাসের অংশ মাত্র? আমাদের বোঝা উচিত, প্রিয় নবী (সা.)-এর পোশাক ছিলো সে যুগের আরব সংস্কৃতির অনুসারে। তাই যদি তিনি আজকের বাংলাদেশে জন্মাতেন, তাহলে হয়তো এখানকার পরিবেশ, সংস্কৃতি ও সমাজ বাস্তবতা অনুযায়ীই পোশাক পরিধান করতেন—তবে অবশ্যই লজ্জাস্থান আবৃত, পরিচ্ছন্ন ও শালীনতার সাথে। অতএব, আমাদের মূল মনোযোগ হওয়া উচিত ইসলামি মূল্যবোধ, সদাচরণ, ইখলাস এবং...

যদি একেবারেই না থাকতাম তাহলে কি তা উত্তম?

Would it have been better never to have existed?   — আহসানুল ইরফান  [] যারা পাপ কাজ করছে তারা এখন আনন্দ পাচ্ছে, কিন্তু পরকালে কষ্ট পাবে, আর যারা পৃথিবীতে পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার দ্বারা কষ্ট গ্রহণ করছে তারা পরকালে সুখে পাবে। [] কম্পিউটার আবিষ্কার না করলে নানা সমস্যা হতো, আবার আবিষ্কার করার ফলে অন্য নানা সমস্যা হচ্ছে। [] কোনো ছোটো বাচ্চা মারা গেলে সে জান্নাতে যাবে, কিন্তু সে জান্নাতের উচু স্থান অর্জন করবে না, কিন্তু যারা পৃথিবীতে অনেক পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার দ্বারা কষ্ট গ্রহণ করেছে তারা জান্নাতের উচু স্থান অর্জন করবে। [] ছোটোবেলায় মারা গেলে বড়োবেলার সুখ পাওয়া যাবে না, কিন্তু জাহান্নামে যেতে হবে না, কিন্তু বড়ো বেলায় মারা গেলে জাহান্নামে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে তবে জান্নাতের উচু স্থান অর্জন করার সম্ভাবনাও আছে।  [] আমি কোনো মশাকে মারলে মশার কষ্ট, তবে আমার জন্য ভালো। আর মশা আমাকে কামড় দিলে, মশার জন্য ভালো, তবে আমার জন্য কষ্ট। সূরা আন-নিসা (৪:৪০):  إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ ۖ "নিশ্চয়ই আল্লাহ বিন্দু পরিমাণও জুলুম করেন না।" <?> Would it have been bet...

বিশ্বাস ও যুক্তির ভারসাম্য

বিশ্বাস ও যুক্তির ভারসাম্য:   — আহসানুল ইরফান [] কিছু বিষয় আমরা বিশ্বাসের ওপর ছেড়ে দেবো, আর কিছু বিষয় নিয়ে আমরা খোলামেলা আলোচনা করবো। একজন নাস্তিকও নাস্তিক্যবাদের প্রতিটি দিক নিয়ে শতোভাগ নিশ্চিত নয়, একজন খ্রিস্টানও খ্রিস্ট ধর্মের প্রতিটি দিক নিয়ে শতোভাগ নিশ্চিত নয়... আলোচনা করার কাঠামো হবে— ইসলাম বনাম নাস্তিক্যবাদ, ইসলাম বনাম খ্রিস্ট ধর্ম... আমরা এ মতোবাদ ও ধর্মগুলোর যৌক্তিকতা এবং ইহকালীন ও পরকালীন জীবনে এগুলোর ফলাফল, উভয়কে গুরুত্ব দিয়ে অন্যান্য মতোবাদ ও ধর্মের সাথে ইসলামকে তুলনা করে আলোচনা করবো, যৌক্তিক হলেই সেটার ফল ভালো নাও হতে পারে আবার ফল ভালো হলেই সেটা সঠিক নাও হতে পারে৷ তাই আমরা যৌক্তিকতা ও ফলাফল উভয়কেই গুরুত্ব দেবো এবং কিছু বিষয় বিশ্বাসের ওপরও ছেড়ে দেবো। সবদিক থেকেই তুলনা করা হবে।  > কিছু বিষয় বিশ্বাসের ওপর ছেড়ে দেবো, এর ভেতর কি এটাও অন্তর্ভুক্ত যে অনন্তকাল নরক অথবা অন্তত ১০০ বছরের নরক ন্যায়সঙ্গত? = হ্যাঁ, কারণ সাধারণ বিষয়ের ক্ষেত্রে বিশ্বাসের ওপর ছেড়ে দেয়ার কিছু নেই, জটিল বিষয়ের ক্ষেত্রেই আমরা বিশ্বাসের ওপর ছেড়ে দিতে পারি। আর মানুষের বোঝার সীমাবদ্ধতাও আছে। যেম...

অনেকেই বলেন, জাকির নায়েক গভীর ও জটিল প্রশ্নগুলোর উত্তর দেন না

অনেকেই বলেন, জাকির নায়েক গভীর ও জটিল প্রশ্নগুলোর উত্তর দেন না। = হ্যাঁ, তা হতেই পারে। সময় পাল্টে গেলে, এখন মানুষ গভীর থেকে আরও বেশি গভীর বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। অনেক সুক্ষ্ম পার্থক্য নিয়ে কথা বলে। কিন্তু জাকির নায়েক যখন তরুণ ছিলেন, সে সময়ের প্রেক্ষাপটে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী, কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে তিনি সময়ের সাথে তাল মিলাতে পারবেন না তা স্বাভাবিক। এখন নতুন নানা মানুষ এগিয়ে আসবে, এবং এক সময় ঐ সকল মানুষও সময়ের সাথে সাথে পিছিয়ে পড়বে, স্বাভাবিক।

মুহাম্মদ (সা.)-কে কি এই প্রশ্ন করা হয়েছিলো?

মুহাম্মদ (সা.) কি কখনো ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-কে বলেছিলেন যে, আপনি কেন শুধু আমার কাছেই আসেন, অন্যদের কাছে গেলেই তো সব পরিষ্কার হয়ে যায়? জাহান্নামের শাস্তি কীভাবে ন্যায়সংগত? আল্লাহ চাইলেই তো সব সমস্যা সমাধান করে দিতে পারেন; আল্লাহ তা করছেন না কেন... এসব প্রশ্ন তিনি কি কখনো করেছিলেন, আর না করলেও কেন করেননি? আর সাহাবীরাও কি কখনো এসব প্রশ্ন মুহাম্মদ (সা.)-কে করেছিলেন? না করলে কেন করেননি? ১. মুহাম্মদ (সা.)-এর সব কথা ও কাজ সংরক্ষিত হয়নি। সব কথা ও কাজ সহীহ হাদিসে নেই। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, হাদিসের যে অংশ নির্ভরযোগ্যভাবে সংরক্ষিত হয়েছে, তা-ই আল্লাহর পক্ষ থেকে হেফাজতে রাখা জ্ঞান, এবং আমাদের জন্য সেটুকুই যথেষ্ট। ২. মুহাম্মদ (সা.) কেন জিজ্ঞেস করেননি? = মুহাম্মদ (সা.) হয় এসব প্রশ্নের উত্তর ভালোভাবে জানতেন, অথবা হয়তো তিনি ভেবেছিলেন—এসব প্রশ্ন করে বা এগুলো বলে তো কোনো লাভ হবে না। আমাদের সাধারণ দোয়া কবুল হয়, কিন্তু আমরা যদি দোয়া করি—আল্লাহ আমাকে সবার সামনে উড়িয়ে দেখাও, আল্লাহ কি সবক্ষেত্রে তা করবেন? মুহাম্মদ (সা.) আগে থেকেই ধার্মিক ছিলেন, তিনি জানতেন—সব রকমের দোয়া কবুল হয় না, সব রকমের প্রশ্নের উত্তর ...

কোনো ইসলামিক বক্তব্যের শুরুতে ও শেষে সাধারণত যেগুলো বলা হয়।

 ⚫ কোনো ইসলামিক বক্তব্যের শুরুতে ও শেষে সাধারণত যেগুলো বলা হয়: __________________________________________________ ◾শুরুতে সাধারণত যেগুলো বলা হয়: ٱلْـحَمْدُ لِلَّهِ، وَٱلصَّلَاةُ وَٱلسَّلَامُ عَلَىٰ رَسُولِ ٱللَّهِ، وَعَلَىٰ آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ، أَمَّا بَعْدُ- উচ্চারণ: আল-হামদু লিল্লাহ, ওয়াস্-সালাতু ওয়াস্-সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, ওয়া আলা আ-লিহি ওয়া সাহাবিহি আজমাঈন, আম্মা বাদ। অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রসূলের ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সমস্ত সাহাবিদের ওপর। এরপর সাধারণত বলা হয়, أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ- بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ- উচ্চারণ: আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। অর্থ: আমি অভিশপ্ত শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। __________________________________________________ এছাড়া শুরুতে বলা যেতে পারে,  اَلْـحَمْدُ لِلّٰهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللّٰهِ مِنْ شُرُوْرِ أَنْفُسِنَ...

পাপ

 পাপ:  ১. ইচ্ছাকৃতভাবে পাপ কাজ করার আশা করাও পাপ।  ২. পাপ কাজ করতে পারছি না বলে আপসোস করাও পাপ।  ৩. ইচ্ছাকৃতভাবে পাপ কাজের কল্পনা করাও পাপ।  ৪. আর পাপ করা তো পাপই। [] "নিশ্চয়ই অন্তরের কথা ও গোপন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে।" — (সূরা আল-ইসরা: ৩৬) [] রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি খুন করার নিয়ত পোষণ করে, কিন্তু সুযোগ না পাওয়ায় তা করতে পারে না, তাও সে খুনীর পর্যায়ে গণ্য হবে।"  — (সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ৪৪৬৮) [] রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "দুনিয়াতে চার শ্রেণির মানুষ আছে... একজন ব্যক্তি, আল্লাহ তাকে সম্পদ ও জ্ঞান দিয়েছেন। সে তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে। আরেক ব্যক্তি, যার জ্ঞান আছে, কিন্তু সম্পদ নেই, আর সে বলে, 'যদি আমারও সম্পদ থাকতো, আমি অমুকের মতো খরচ করতাম।' রসূল (সা.) বলেন, 'এই দুজনের সওয়াব সমান।'" তারপর তিনি বলেন, "এক ব্যক্তি, যার নেই জ্ঞান, আছে সম্পদ, আর সে তা অপচয় ও হারাম কাজে ব্যয় করে। আরেক ব্যক্তি, যার না আছে জ্ঞান, না আছে সম্পদ, আর সে বলে, 'যদি আমার সম্পদ থাকতো, আমি অমুকের মতো করতাম।' রসূল (সা.) বলেন, 'এই দুজনের...

শব্দ বিভ্রান্তি

শব্দ বিভ্রান্তি: ১. "যতোটুকু পারো করো, বাকিটা আল্লাহর ভরসা।" কেউ বলতে পারে, "নাহ, পুরোটাই আল্লাহর ভরসা।"। হ্যাঁ, পুরোটাই আল্লাহর ভরসা, কিন্তু এখানে যা বোঝানো হচ্ছে তা হলো "যতোটুকু পারার করো, তুমি যা করবে তারপর বাকিটা আল্লাহ দেখবেনি", এটা কথা বলার এক ধরন মাত্র।  ২. "ঈমান অর্জন করতে খুব বেশি জ্ঞানের প্রয়োজন হয় না, আল্লাহ চাইলেই একজনের অন্তরে ঈমান দিতে পারেন।" কেউ বলতে পারে, "নাহ, তুমি ভুল, 'আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী তারাই কেবল তাকে ভয় করে' (৩৫:২৮)। এ আয়াতে জ্ঞানী বলতে যারা কুরআন সুন্নাহর আলোকে জ্ঞানী, যেমন: একজন ধার্মিক কৃষক বিজ্ঞানী দার্শনিকদের মতো জ্ঞানী মানুষ নাও হতে পারে, কিন্তু তার ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান আছে ফলে সে জ্ঞানী।   ৩. "যেকোনো কিছুর অতিরিক্ততা সমস্যাজনক, অতিরিক্ত ইবাদত করাও ঠিক নয়।"  কেউ বলতে পারে, "নাহ, নবি রসূলরা আল্লাহর অনেক ইবাদত করতেন"। ওপরে "অতিরিক্ত" বলতে বাড়াবাড়ি করা বোঝানো হচ্ছে, কেউ ধরুন সারাদিন শুধু নামাজই পড়ে, অন্য কিছুই করে নাহ, এমন অতিরিক্ততা।  ৪. "নারীকে চারটি কার...

ইসলামে জন্য

ইসলামে জন্য: — আহসানুল ইরফান بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ- পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। ⚫ আমি মনে করি আল্লাহ এমনভাবে করেন যাতে করে অনেকে সন্দেহ করে আবার অনেকে বিশ্বাসও করে: আমি মনে করি, আল্লাহ এমনভাবে করেন যাতে করে অনেকে সন্দেহ করে আবার অনেকে বিশ্বাসও করে। যেমন— পৃথিবীতে সুখ আছে যেটার জন্য মানুষ আল্লাহ তায়ালায় বিশ্বাস করে। আবার, কষ্ট আছে, যেটার জন্য অনেকে আল্লাহকে সন্দেহ করে। পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা আছে যেটার জন্য অনেকে আল্লাহ তায়ালায় সন্দেহ করে। আবার, পৃথিবীতে সৌন্দর্য আছে যেটার জন্য অনেকে আল্লাহ তায়ালায় বিশ্বাস করে। হয় আল্লাহ তায়ালাকে কেউ বানাননি, অথবা প্রকৃতিকে কেউ বানায়নি —যেকোনো একটি হবে। আর আমি মনে করি, আল্লাহ তায়ালাকে কেউ বানায়নি এমন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আল্লাহ নবি রসূলদেরকে "স্বপ্নে" অনেককিছু দেখান। ফলে অনেকে সন্দেহ করবে, কিন্তু অনেকে আবার বিশ্বাসও করবে। ⚫ যেকোনো কিছু অতিরিক্ততা সমস্যাজনক: "অতিরিক্ত" ও "বেশি" দুটি ভিন্ন।  পৃথিবীতে সুখ আছে, কষ্ট আছে, ভুল আছে, সঠিক আছে, রাত আছে, দিন আছে... এ সব কিছুই প্রয়োজন, কিন্তু এগুলোর ...

বেশিরভাগ যে সকল বিজ্ঞানী ও দার্শনিকরা হেদায়াত...

বেশিরভাগ যে সকল বিজ্ঞানী ও দার্শনিকরা হেদায়াত পায় না সম্ভাবত তাদের না পাওয়ার কারণ এটা যে তারা তাদের এন্যালেটিক্যাল মেধা ও জ্ঞানকে প্রধান্য দেয়, সুন্দর পবিত্র আন্তরকে নয়, যেখানে হেদায়াত পাওয়ার ক্ষেত্রে সুন্দর পবিত্র অন্তর বেশি ভূমিকা রাখে। সাধারণত এটা প্রকৃত মুসলিমরা সহজেই ধরতে পারে, কিন্তু ওসকল বিজ্ঞানী ও দার্শনিকরা অনেক জ্ঞানী ও মেধাবী হয়েও ধরতে পারে না। (লেখায় সীমাবদ্ধতা থাকতেই পারে।)

বাঙালি মুসলিমদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু ধার্মিক ব্যক্তিত্ব

 ⚫ বাঙালি মুসলিমদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু ধার্মিক ব্যক্তিত্ব: ১. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ২. সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীর ৩. হাজী শরীয়তুল্লাহ ৪. কবি গোলাম মস্তফা ৫. খান বাহাদুর আহসানউল্লাহ ৬. আবুল কালাম শামসুদ্দীন ১. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলা ভাষাতত্ত্ব ও সাহিত্য গবেষণার অগ্রগামী ব্যক্তিত্ব হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। বাংলা ভাষার উৎপত্তি, গঠন ও বিবর্তন নিয়ে তাঁর সুগভীর গবেষণা আজও মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস ও জীবনচর্চায় তিনি ছিলেন একজন সুন্নি মুসলমান, এবং হানাফি-আজারী মতবাদের অনুসারী। আধ্যাত্মিক দিক থেকেও তিনি ছিলেন অনুরাগী—তিনি ফুরফুরা শরীফের বিশিষ্ট সুফি সাধক হযরত মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিকী (রহ.)-এর কাছ থেকে খেলাফত লাভ করেন। ধর্মপ্রিয় ও অনুশাসনভিত্তিক পরিবারে তাঁর বেড়ে ওঠা হয়, যা তাঁর ব্যক্তিত্বে গভীর প্রভাব ফেলে। ভাষাজ্ঞানে তিনি ছিলেন অসাধারণ; প্রায় ১৮টি ভাষায় ছিলো তাঁর দক্ষতা, যা তাঁর ব্যতিক্রমী প্রতিভা ও আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাকর্মের পরিচয় বহন করে। ২. তিতুমীর (সৈয়দ মীর নিসার আলী) তিতুমীর ছিলেন এক অনন্য ধর্মপ্রাণ ও সংগ্রামী নেতা...